নার্ভের, পাইলস, প্রসাবে জ্বালাপোড়া, হাঁপানি রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট শেয়ার করতে

৪ টি গুরুতর রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা

নার্ভের রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

স্নায়ুতন্ত্র, মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের যে কোনো সমস্যা হলেই স্নায়ুতে ব্যথা হয়। এক্ষেত্রে পেশি ও বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে স্নায়ুতে কিছু সমস্যা হলে এটি ঘটতে পারে। স্নায়ু ব্যথার কিছু সাধারণ কারণ হলো-

  • মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড বা স্নায়ুতে আঘাত
  • অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন
  • নির্দিষ্ট ওষুধ
  • ভিটামিন বি ১ বা বি ১২ এর ঘাটতি
  • স্নায়ুতে কম রক্ত সরবরাহ
  • ডায়াবেটিস
  • হার্ট স্ট্রোক কিংবা
  • বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ।

এ ছাড়াও স্নায়ু ব্যথার আরও কারণ থাকতে পারে। যদিও স্নায়ু ব্যথার চিকিৎসার অনেক উপায় আছে। তবে এই ব্যথা বেশি গুরুতর না হলে কয়েকটি ঘরোয়া প্রতিকারের মাধ্যমেই স্বস্তি পেতে পারেন। এই নার্ভের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে কিছু ঘরোয়া উপায় জেনে নিন :-

  • স্নায়ুর ব্যথা সারাতে হলুদও অনেক কার্যকরী। হলুদে থাকে নানা ওষুধি গুণ। রান্নাঘরের এই মসলা স্নায়ুর ব্যথা নিরাময়ে বেশ উপকারী। কারণ হলুদে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য আছে। যা স্নায়ুর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
  • হিমালয়ান পিংক সল্টকে রক সল্টও বলা হয়। এই লবণ স্নায়ুর ব্যথার চিকিৎসায় উপকারী হতে পারে। এই লবণে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম থাকে। যা স্নায়ুর ব্যথা উপশমে সাহায্য করে।
  • আপেল সিডার ভিনেগারের অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। নার্ভের ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে প্রাকৃতিক এ দাওয়াই। এতে থাকে ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ক্যালশিয়াম ও পটাশিয়াম।যা স্নায়ু ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।
  • গরম ও ঠান্ডা ভাপ নিন। এটি স্নায়ু ব্যথা কমানোর আরেকটি কার্যকর প্রতিকার। তবে ব্যথার প্রথম ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত গরম কম্প্রেস ব্যবহার করা উচিত নয়। অন্যদিকে ঠান্ডা ভাপ নেওয়ার ফলে ব্যথার স্থানের ফোলাভাব দ্রুত কমে।
  • ভিটামিন বি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি গ্রহণ লোহিত রক্তকণিকা গঠনে সাহায্য করে। হাড় ও স্নায়ু সুস্থ রাখে। এটি ভিটামিন বি এর ঘাটতির কারণেও অনেকেই স্নায়ু ব্যথায় ভোগেন। তাই স্নায়ু ব্যথা প্রতিরোধ করতে, ডিম, দুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত দ্রব্যসহ আপনার ডায়েটে ভিটামিন বি জাতীয় খাবার যোগ করুন। স্নায়ু ব্যথা সামান্য হলে এসব ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে স্বস্তি পেতে পারেন। তবে ব্যথা তীব্র হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন দ্রুত।
  • আপেল সিডার ভিনেগারের অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। নার্ভের ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে প্রাকৃতিক এ দাওয়াই। এতে থাকে ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ক্যালশিয়াম ও পটাশিয়াম।
  • স্নায়ুর ব্যথা পুরোপুরি নিরাময় করতে নিয়মিত ব্যায়াম করা জরুরি। গবেষণা অনুসারে, স্ট্রেচিং, ব্যায়াম ও যোগব্যায়াম নার্ভের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম পেশি শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করতে পারে। সায়াটিকা স্নায়ু ব্যথার জন্য শক্তি প্রশিক্ষণ স্নায়ু ব্যথা কমাতে, পেশি নমনীয়তা ও ভারসাম্য বাড়াতে সাহায্য করতে পারে শরীরচর্চা।

পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা, পাইলস এর চিকিৎসা, অর্শ্ব রোগের চিকিৎসা

পাইলস মানেই একটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক স্বাস্থ্য সমস্যা। পাইলসে শুধু ব্যথাই করে না, এই সমস্যা আক্রান্তদের সারাদিন অস্বস্তিকর করে তোলে। পাইলসে মলদ্বার ফুলে যাওয়ার পাশাপাশি প্রচণ্ড ব্যথাও হয়। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ বছর পার হওয়ার পর ৫০ শতাংশ মানুষ এই সমস্যায় ভোগেন। শুরুতে মলদ্বারে শুধু ব্যথা বা জ্বালাপোড়ার অনুভূত হয়।

পাইলস কী?

পাইলস মলদ্বারের একটি রোগ। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মলদ্বারের চারপাশ ফুলে ওঠে। আসলে শিরার কারণে এটি হয়। মলদ্বারে থাকা শিরাগুলো ফুলে যাওয়ার ফলে এমন সমস্যা দেখা দেয়। পাইলস হলে মলত্যাগের সময় অস্বস্তি ও ব্যথা হয়। এছাড়া মলদ্বার থেকে রক্তও পড়তে পারে। রক্ত পড়ার লক্ষণ দেখা দিলে তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্লিডিং পাইলস বলা হয়।

‌পাইলস কেন হয়?

আমাদের রোজকার ডায়েটই পাইলসের মূল কারণ। রোজকার ডায়েটে মশলাদার ও তৈলাক্ত খাবার বেশি থাকলে পাইলসের সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও ফাইবারের পরিমাণ কম থাকলেও এই রোগ হতে পারে। অতিরিক্ত তেলে জাতীয় খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হয়। এর ফলেই বাড়ে পাইলসের আশঙ্কা।

পাইলসের লক্ষণ

মলত্যাগের সময় মলদ্বারে ব্যথা ও অস্বস্তি হলে তা পাইলসের ইঙ্গিত হতে পারে। এছাড়াও, অনেকদিন ধরে চিকিৎসা না করালে মল দিয়ে রক্ত বের হতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ থেকে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া হতে পারে। এগুলো সবই পাইলসের লক্ষণ।

পাইলস রোগটি সারানোর ঘরোয়া উপায়

কিছু ঘরোয়া প্রতিকার আছে যা আপনাকে এই রোগ থেকে প্রাকৃতিকভাবে আরাম দিতে সাহায্য করবে:

  • অ্যালো ভেরা: অর্শ্বরোগের চিকিৎসার জন্য অ্যালোভেরা হল প্রকৃতির সেরা উপাদান । অ্যালোভেরার রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা এবং থেরাপিউটিক বৈশিষ্ট্য অর্শ্বরোগের জ্বালা কমাতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা উভয় অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত উভয় অর্শ্বরোগের জন্যই ব্যবহার করা যেতে পারে। বহিরাগত অর্শ্বরোগ চিকিৎসার জন্য, আপনার মলদ্বার উপর অ্যালোভেরা জেল একটু একটু করে প্রয়োগ করুনএবং ম্যাসাজ করুন। অভ্যন্তরীণ অর্শ্বরোগের চিকিৎসার জন্য অ্যালো ভেরার পাতা কেটে নিন । এই বার একটি পাত্রে রেখে ফ্রিজে রেখে দিন। ব্যথা, পোড়া এবং চুলকানির ব্যথা এবং জ্বালা কমাতে, প্রভাবিত জায়গার ওপর শীতল অ্যালোভেরা প্রয়োগ করুন।
  • ঠাণ্ডা সংকোচন: বরফ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা। বরফ রক্তনালীকে সুস্থ করে, ফোলা কমায় এবং দ্রুত ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। একটি পরিষ্কার কাপড়ের মধ্যে কিছু বরফ দিয়ে সরাসরি প্রভাবিত জায়গার উপর প্রয়োগ করুন । পাইলস দূর না হওয়া পর্যন্ত দিনে বেশ কয়েকবার এটি ব্যবহার করুন।
  • আপেল সিডার ভিনিগার: কষা বৈশিষ্ট্যর কারণে আপেল সিডার ভিনিগার, সেমোলিনা রক্তনালী সঙ্কুচিত করে এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত উভয় অর্শ্বরোগের জ্বালা এবং ব্যথা থেকে আরাম প্রদান করে। বহিরাগত অর্শ্বরোগ জন্য, প্রভাবিত এলাকাটি আপেল সিডার ভিনিগারে ভিজিয়ে রাখুন এবং একটি তুলোর বল দিয়ে চাপ দিন। শুরুর দিকে অসুবিধা হলেও কিন্তু শীঘ্রই আপনি চুলকানি এবং জ্বালা থেকে মুক্তি পাবেন। অভ্যন্তরীণ পাইলসের জন্য, এক গ্লাস জলে এক চা চামচ আপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে দিনে দু’বার করে খেতে পারেন।
  • উইচ হেজেল: উইচ হেজেলের রোগ প্রতিরোধের গুন অর্শ্বরোগ কমাতে সাহায্য করে। অর্শ্বরোগ থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত প্রভাবিত জায়গায় উইচ হেজেলের জেল লাগান।
  • লেবুর রস: লেবুর মধ্যে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এই অবস্থার চিকিৎসা করতে সাহায্য করে। এটি সরাসরি প্রভাবিত এলাকায় প্রয়োগ করুন কিংবা আদা এবং মধুর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে খান।
  • জলপাইয়ের তেল : জলপাইয়ের তেলের মধ্যে রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য আছে যা প্রধানত বহিরাগত অর্শ্বরোগ চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে, যা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এবং পায়ুছিদ্রের মধ্যে রক্তনালীর আকার হ্রাস করতে সাহায্য করে।
  • শস্যদানা: গোটা শস্যদানার মধ্যে ফাইবারের একটি ভাল পরিমাণ থাকে, যা অর্শ্বরোগ এবং রক্তপাত কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার মলকে নরম করতে সাহায্য করে এবং তার বাল্ক বৃদ্ধি করে।
  • সেইজ স্নান: পায়ুছিদ্রে দিনে দুই থেকে তিনবার ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে সাধারণ গরম জল দিন।
  • জল: অভ্যন্তরীণ বা বহিরাগত অর্শ্বরোগে আক্রান্ত হলে আপনার জল খাওয়ার পরিমাণ বাড়ান। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস জল পান করার চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত পরিমাণ জল আপনার অভ্যন্তরীণ সিস্টেমকে পরিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে এবং আপনার সমগ্র শরীরকে হাইড্রেট করে রাখে।

প্রসাবে জ্বালাপোড়া ঘরোয়া চিকিৎসা

প্রসাবে জ্বালাপোড়া

প্রসাব শেষে আমরা যে অস্বস্তিকর ও অসহ্যকর ব্যথা কিংবা জ্বলা অনুভব করি সেটাই হল প্রসাবে জ্বালাপোড়া কিংবা মূত্রনালীর সংক্রমণ (Urinary tract infections (UTIs)। এই জ্বালাপোড়াটা মূলত জীবাণুর কারণে ঘটে, যেমন ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে শরীরের রোগ প্রতিরোধে বাধা দেয়। তারা কিডনি, মূত্রাশয় এবং তাদের মধ্যবর্তী টিউবগুলিকে আক্রমণ করে। যার ফলে প্রসাব শেষে জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হয়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি এমন জীব যা মাইক্রোস্কোপ ছাড়া দেখা যায় না

ভয় পাওয়ার কোন কারণ নাই, এই উপসর্গগুলি খুবই কমন। শুধু আমেরিকাতে প্রতি বছরে ৮০ লক্ষের মতো রোগী এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে থাকেন।

কারণ

বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া আমাদের ত্বকে, মলদ্বারে এবং যোনির চারপাশে বাস করে। অনেক সময় এইসব ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীতে প্রবেশ করে, এবং তখন তা মূত্রাশয়ে চলে যায় ফলে এই ব্যাকটেরিয়াগুলি প্রসাবে জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি করে।

আমাদের শরীর সবসময় খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলি মূত্রনালীতে প্রবেশ করার আগে তা প্রতিরোধ করে থাকে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আগেই ব্যাকটেরিয়াগুলি মূত্রনালীতে প্রবেশ করে ফেলে। সেসব ক্ষেত্রে প্রসাবে জ্বালাপোড়া হয়ে থাকে। এছাড়াও যেসব কারণে প্রসাবে জ্বালাপোড়া হয় তা হলঃ

  • প্রসাবে জ্বালাপোড়া সাধারণত Escherichia coli (E. coli) ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট হয়ে থাকে, যা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল (GI) ট্র্যাক্টে পাওয়া এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া।
  • প্রসাবে জ্বালাপোড়া ঘটতে পারে যখন GI ব্যাকটেরিয়া মলদ্বার থেকে মূত্রনালীতে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও, যেহেতু মহিলাদের মূত্রনালী যোনিপথের কাছাকাছি থাকে, তাই যৌনবাহিত সংক্রমণ, যেমন হারপিস, গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া এবং মাইকোপ্লাজমা, মূত্রনালী হতে পারে।
  • বেশিরভাগ ইউটিআই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে ছত্রাক এবং খুব কম ক্ষেত্রে ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হয়।

লক্ষণ

প্রসাবে জ্বালাপোড়ায় যেসব লক্ষণ সাধারণত লক্ষ করা যায় বা যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন আপনার মূত্রনালীতে ইনফেকশন হয়েছে তা হলঃ

  • প্রসাব করার সময় মূত্রনালীতে জ্বালাপোড়া করা।
  • ঘন ঘন প্রসাবে ধরা, তবে প্রতিবার খুব কম প্রসাব করা।
  • প্রসাবের মধ্যে রক্ত যাওয়া।
  • প্রসাবের রঙ ধূসর হওয়া বা ময়লা রঙের প্রসাব হওয়া।
  • চায়ের মতো রঙের প্রসাব হওয়া।
  • প্রসাবে খুব বাজে গন্ধ করা।
  • মলদ্বারে ও মূত্রনালীতে ব্যথা করা।

উপরের লক্ষণগুলি আপনার মধ্যে থাকলে প্রথমেই আপনার উচিত ভালো ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনে মেডিকেল চেকাপ কিংবা মেডিকেল টেস্ট করানো।

প্রসাবে জ্বালাপোড়া ঘরোয়া চিকিৎসা

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা ইউরিন ইনফেকশন রোধে পানি পানের বিকল্প নেই। পানি বা তরল জাতীয় খাবার দৈনিক প্রস্রাবের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই প্রস্রাবের সাথে দেহের ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস বের হয়ে যায়। তাছাড়া দেহের জীবাণু সমূহও প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়। ফলে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া দূর হয়। দ্রুত নিরাময়ের জন্য উষ্ণ গরম পানি খাওয়া ভালো।

শাক-সবজি

প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া দূর করতে সবুজ শাক-সবজির অন্ত নেই। শাক-সবজির মাঝে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে যা দেহের প্রয়োজনীয় পানির অভাব পূরণ করে। দৈনিক খাদ্য তালিকায় আমিষের পরিমাণ কমিয়ে শাক সবজির পরিমান বাড়ানো উচিত। তাছাড়া কিছুকিছু শাক সবজি দেহের শর্করার চাহিদাও মেটায়। তাই প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া দূর করতে প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাক সবজি খেতে হবে।

গরম চাপ

গরম চাপ ইউরিন ইনফেকশন দূর করতে এবং পেট ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। হট ওয়াটার ব্যাগ কিংবা কাপড় গরম করে তলপেটে ও এর আশেপাশে এবং পিঠের নিচের অংশে লাগাতে পারেন। এতে ব্লাডারের উপরের অতিরিক্ত চাপ কমে যাবে এবং ব্যথাও অনেকটা কমে যাবে। তাছাড়াও বাজারে আজকাল হিটিং প্যাড পাওয়া যায়, যা ব্যবহারে মাসিকের সময় তলপেটের ব্যথা দূর হয় এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয় না। তাই প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ায় আক্রান্ত নারীরা মাসিক বা পিরিয়ডের সময় হিটিং প্যাড ব্যবহার করতে পারেন। এতে তলপেটের ব্যথা দূর হওয়ার পাশাপাশি প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা ইউরিন ইনফেকশনও দূর হয়ে যাবে।

পানিশূন্যতা দূরিভূত

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার জন্য সবচেয়ে বেশী দায়ী হচ্ছে পানিশূন্যতা। দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান না করলে খুব দ্রুত ইউরিন ইনফেকশন হয়ে যায়। প্রচুর পানি পান করতে হবে। দৈনিক ৭-৮ গ্লাস পানি পান করলে খুব সহজেই প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া দূর হবে। তাছাড়া পানি জাতীয় ফল যেমনঃ তরমুজ, আম, আপেল, আঙ্গুর, আনার, নাশপাতি, ডাব ইত্যাদি খেলে পানিশূন্যতা কমে। তাছাড়া স্যুপ, নারকেলের পানি, ফলের রস, খাবার স্যালাইন ইত্যাদি খেলেও প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া অনেকটা লাঘব হয়।

দই

দই প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া দূর করতে খুবই কার্যকরী। মিষ্টি দই এবং টকদই উভয়ই রয়েছে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়া দেহের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং জীবাণু বিনাশ করে। তাছাড়া প্রতিদিন দই খাওয়ার অভ্যাস দেহের পিএইচ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ১-২ কাপ দই রাখুন।

গরম চাপ

গরম চাপও দিতে পারেন। এতে ব্লাডারের চাপ কমবে এবং ব্যথা কমবে। এ জন্য আপনি হিটিং প্যাড ব্যবহার করতে পারেন অথবা কোনো কাপড় তাপে গরম করে পেটে ব্যবহার করতে পারেন। একে তলপেটে ৫ মিনিট রাখুন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। আবার দিন। এভাবে কয়েকবার করুন।

তাছাড়া বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ যেমন নিমপাতার রস ও চিরতার রসও প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া দূর করে। এবং বিভিন্ন মসলার মিশ্রণ যেমন আদার রস ও জিরার গুঁড়া মিশিয়ে হালকা গরম পানি দিয়ে পান করলেও ইউরিন ইনফেকশন বা প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া দূর হয়ে যায়। সামান্য কিছু ঘরোয়া পদ্ধতির মাধ্যমে খুব সহজেই প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া দূর করা সম্ভব। তাই এই উপসর্গটিকে বাড়তে না দিয়ে আজই উপরোক্ত উপায়গুলো অবলম্বন করা শুরু করে দিন। কাঙ্খিত ফলাফল না পাওয়া অবধি মেনে চলুন উপরের উপায়গুলো। খুব দ্রুতই এর ফল পাবেন।

হাঁপানি রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে বছরের যে কোনো সময়েই হাঁপানি সমস্যা বাড়তে পারে। এই রোগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বংশগত। 

হাঁপানির রোগের লক্ষণ-

১) অনবরত কাশি। বিশেষ করে রাতে ও ভোরের দিকে বেশি কাশি হতে থাকে। 

২) হাঁপানির রোগীদের প্রতিটি নিঃশ্বাসের সঙ্গে ঘরঘর আওয়াজ হয়। 

৩) বুকে চাপ অনুভব করা। এর থেকে মনে হয় যেন বুকের উপর কিছু চেপে বসে রয়েছে। 

৪) অনবরত নিঃশ্বাস কষ্ট হওয়া হাঁপানির অন্যতম লক্ষণ।  

তবে প্রত্যেক হাঁপানি রোগীর যে এই লক্ষণগুলি থাকবেই তার কোনও মানে নেই। অনেক সময়ে এর কোনও লক্ষণই থাকে না। আবার কিছু ক্ষেত্রে এমন লক্ষণ থাকলেও, দেখা যায় তাঁর হাপানি নেই।  তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই ওষুধ খাবেন। 

সাধারণত অতিরিক্ত দৌড়োদৌড়ি, ছুটোছুটি, স্ট্রেস, ঠান্ডা হাওয়া ও বিশেষ কিছু ওষুধের প্রভাবে হাঁপানির কবলে পড়তে হয় বা হাঁপানির রোগীদের অস্বস্তি বেড়ে যায়। এছাড়া বংশে আগে কারও হাঁপানি থারকলেও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অ্য়ালার্জির সমস্যা  থাকলেও হাঁপানির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এছাড়া পোষ্যের লোম থেকে, ধূমপান, দূষণ,ওবেসিটি থেকেও হতে পারে হাঁপানির সমস্যা।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে হাঁপানির অনেক চিকিৎসা রয়েছে। তবে প্রাকৃতিক উপায়ে খুব সহজেই ঘরে বসে তাৎক্ষণিক প্রশান্তি পেতে পারেন। জেনে নিন সহজ উপায়গুলো-

সরিষার তেল

সরিষার তেলের সঙ্গে সামান্য কর্পূর মিশিয়ে নিন। এবার মিশ্রণটি বুকে ভালোভাবে ম্যসাজ করুন। এতে আপনি তাৎক্ষণিক হাঁপানি থেকে মুক্তি পাবেন। চাইলে তেল হালকা গরম করে নিতে পারেন। 

ডুমুর

হাঁপানি রোগীদের জন্য মহৌষধ হিসেবে পরিচিত ডুমুর। শুকিয়ে নেয়া ডুমুর সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে এই পানি পান করুন নিয়মিত। 

আদা

আদার ওষুধি গুণের সঙ্গে কমবেশি সবাই পরিচিত। তবে হাঁপানি সারাতে এটি জাদুর মতো কাজ করে। দিনে ২ থেকে ৩ বার আদা, মধু এবং ডালিম একসঙ্গে খেতে পারেন। 

কফি

ক্যাফেইন এর মধ্যে কফি হাঁপানি রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। এটি নাক পরিষ্কার রেখে সহজে নিশ্বাস নিতে সাহায্য করে। যদি আপনি কফি পছন্দ না করে থাকেন। সেক্ষেত্রে চা খেতে পারেন। তবে দিনে ৩ কাপের বেশি খাওয়া যাবে না। 

পেটের শ্বাস কৌশল

এই কৌশলটি আপনার ফুসফুসে বাতাস চলাচল ঠিক রাখবে। আপনি শুয়ে বা বসে যেভাবেই থাকুন খেয়াল রাখুন ঠিক মতো শ্বাস নিতে পারছেন কিনা! নাক দিয়ে আস্তে আস্তে শ্বাস নিন। আপনি যখন শ্বাস ফেলেন তখন আপনার পেটটি আপনার বুকের বিপরীতে বাইরে বের করে দিন। আপনার পেটের ভিতরের দিকে ঠুকিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। সাধারণত শ্বাসকষ্ট হলে শ্বাস প্রশ্বাসের দ্বিগুণ বেশি হয়ে থাকে।

এছাড়া হাঁপানি রোগ নিরাময় করতে:-

  • সরশের তেলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে সেই তেল নিয়মিত বুকে মালিশ করলে আরাম পাওয়া যায় হাঁপানি থেকে।
  • জলের মধ্য কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস অয়েল মিশিয়ে সেটাকে গরম করে তার ভেপার নিন নিয়মিত।
  • বেদানার রসে একটু মধু ও আদার রস দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। দিনে ২-৩ বার এই মিশ্রণ খান। হাঁপানি থেকে আরাম পাবেন।
  • ব্ল্যাক টি বা ব্ল্যাক কফিতেও হাঁপানির কষ্ট থেকে আরাম পাওয়া যায়।
  • ডায়েটে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩, ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।
আরো অন্যান্য অতি জনপ্রিয় প্রশ্নোত্তর সম্পর্কে জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন 

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বই pdf

হোমিওপ্যাথিক প্র্যাকটিশনার্স গাইড (অরিজিনাল), বেঙ্গালি মেডিক্যাল



হোমিওপ্যাথিক প্র্যাকটিশনার্স গাইড (অরিজিনাল), বেঙ্গালি মেডিক্যাল

আপনি কি চাকরি খুজঁছেন, নিয়মিত সরকারিবেসরকারি চাকরির সংবাদ পেতে ক্লিক করুন। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে মানব সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাড়ার জন্য, ক্লিক করুন। এছাড়াও, স্বাস্থ, টেকনোলজি, বিসনেস নিউস, অর্থনীতি ও আরো অন্যান্য খবর জানার জন্য, ক্লিক করুন

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট শেয়ার করতে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।