প্রাথমিক চিকিৎসা কি, প্রাথমিক চিকিৎসা কাকে বলে, প্রাথমিক চিকিৎসার জনক কে

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট শেয়ার করতে

প্রশ্নপত্র

প্রাথমিক চিকিৎসা কি

প্রাথমিক চিকিৎসা বা ফার্স্ট এইড (First Aid) নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির শারীরিক অক্ষমতা, ক্ষতিগ্রস্ততা বা আঘাতপ্রাপ্তির প্রেক্ষাপটে সাধারণ জ্ঞানের উপর নির্ভর করে অস্থায়ী চিকিৎসাবিশেষ। দূর্ঘটনাজনিত কোন কারণে আরও গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ততা ও সঙ্কটাপন্ন হবার হাত থেকে রোগীকে বাঁচাতে প্রাথমিক চিকিৎসা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে থাকে। এর ফলে ভূক্তভোগী ব্যক্তিকে অস্থায়ীভিত্তিতে নিরাপত্তা প্রদান করে উন্নত চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ফলশ্রুতিতে ডাক্তার বা নার্স প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহযোগিতা করে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন কিংবা অন্য কোন বিশেষায়িত হাসপাতালে দ্রুত প্রেরণের সঠিক নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন।

প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের জন্যে তেমন কোন যন্ত্রপাতি বা চিকিৎসা উপকরণের প্রয়োজন পড়ে না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে যে-কোন স্থানে ও সময়ে দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। জরুরি চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসার উপর আগ্রহী ব্যক্তিদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। এর ফলে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ব্যক্তি নির্দিষ্ট স্থানে তথ্য প্রেরণ করেন ও অ্যাম্বুলেন্স আসার পূর্ব পর্যন্ত রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

প্রাথমিক চিকিৎসকগণ মূলত কোন অনুমোদিত চিকিৎসক নন। প্রাথমিক চিকিৎসা হচ্ছে ডাক্তারী চিকিৎসার পূর্বে রােগী বা আহত ব্যক্তির অবস্থা যাতে খারাপের দিকে না যায় বা অবনতি না ঘটে তার জন্য ঘটনাস্থলে তাৎক্ষনিকভাবে যে চিকিৎসা প্রদান করা হয় তাকেই প্রাথমিক চিকিৎসা বলে।
প্রাথমিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য : –

  • রোগীর জীবন রক্ষা করা।
  • রোগীর অবস্থার অবনতি রোধ করা।
  • রোগীর অবস্থার উন্নতি করা।
  • রোগীর চিকিৎসায় সহযােগীতা করা।
  • প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন সময়ের এক ফোড়, অসময়ের দশ ফোঁড়”। প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে কিছু জ্ঞান থাকা প্রয়ােজন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা, অগ্নি, ভূমিকম্প প্রভৃতি দুর্ঘটনায় লােক বিভিন্নভাবে আহত হয়। ইহাছাড়া আধুনিক জগতে যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির বহুল ব্যবহারের দরুন মানুষ বিভিন্নভাবে আহত হয়। তাই এই সমস্ত আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ গ্রহন অপরিহায্য হয়ে পড়েছে।

প্রাথমিক চিকিৎসা কাকে বলে

যেকোনো আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাথমিকভাবে হাতের কাছের জিনিস দ্বারা রোগীকে চিকিৎসা করা যাতে ডাক্তার আসার পূর্বে রোগীর অবস্থার অবনতি না ঘটে বা জটিলতা সৃষ্টি না হয় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা বলে।

একজন আহত ব্যক্তিকে সর্ব প্রথম যে সহযোগিতা বা সেবা প্রদান করা হয় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা বলে। অন্যভাবে আমরা বলতে পারি কোন দৈব দূর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিংবা আপদকালীণ সময়ে কোন আহত ব্যাক্তিকে ডাক্তারের নিকট অথবা হাসপাতালে বা অন্য কোন চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রেরণের পূর্বে তার অবস্থার যাতে অবনতি না ঘটে তার যথাযথ ব্যবন্থা গ্রহণ করাকেই প্রাথমিক চিকিৎসা বলে।

প্রাথমিক চিকিৎসার সংজ্ঞা: ডাক্তার আসার পূর্বে অথবা রোগীকে ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পূর্বে আকস্মিক অসুস্থতা বা দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরী ভিত্তিতে যে চিকিৎসা প্রদান করা হয় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা বলে। 

প্রাথমিক চিকিৎসার জনক কে

মহান গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস কে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক বলা হয়ে থাকে। প্রাচীন গ্রেকো-লাতিন সংস্কৃতিরর আরেকজন বিখ্যাত চিকিৎসক হলেন গ্যালেন।

প্রাচীন চিকিৎসার প্রমাণগুলি পাওয়া গেছে মিশরীয় ঔষধ, বেবিলনিয়ান ঔষধ, আয়ুর্বেদিক ঔষধ (যা ভারতীয় উপমহাদেশে সুপ্রচলিত ছিল), ক্লাসিক্যাল চীনা ওষুধ ( যাকে আধুনিক ঐতিহ্যবাহী চীনা ওষুধের পূর্বসূরি বলে ধারণা করা হয়), প্রাচীন গ্রিক ঔষধ এবং রোমান ঔষধ থেকে।

মিশরের ইমহোতেপ (৩য় সহস্রাব্দের বিসি) ছিল প্রথম পরিচিত চিকিৎসক যা ইতিহাসে পাওয়া যায় । ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে প্রাচীনতম মিশরীয় চিকিৎসা পাঠ্যক্রমটি কাহুন গাইনোকোলজিক্যাল প্যাপিরাস নামে পরিচিত যা মূলত গাইনোকোলজিক্যাল রোগের বর্ণনা দেয়ার ক্ষেত্র ব্যবহৃত হতো। ১৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এডউইন স্মিথ প্যাপিরাস সার্জারির উপর প্রথম কাজ করেছিলেন, আর ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে Ebers Papyrus কাজ করেছিলেন যা চিকিৎসা সংক্রান্ত পাঠ্যপুস্তকের অনুরূপ ছিল।

চীনে চিকিৎসা বিষয়ক প্রত্নতাত্ত্বিক যে প্রমাণগুলি পাওয়া যায় তা ছিল ব্রোঞ্জ যুগের নিদর্শন । তখন সেখানে শং রাজবংশের শাসন চলিতেছিল । চীনে অস্ত্রোপচারের জন্য বনজঙ্গল থেকে সংগৃহীত বীজ ব্যবহৃত হতো । Huangdi Neijing ছিল চীনের চিকিৎসা শাস্রের জন্য মাইল ফলক যা ছিল দ্বিতীয় খ্রিস্টপূর্বাব্দের শুরু এবং তৃতীয় শতাব্দীতে লেখা একটি মেডিকেল পাঠ।

ভারতে, শল্যচিকিৎসক Sushruta প্লাস্টিকের অস্ত্রোপচারের প্রাচীনতম রূপসহ অসংখ্য অস্ত্রোপচারের বর্ণনা দিয়েছেন। অস্ত্রোপচারের সবচেয়ে পুরনো রেকর্ডগুলি পাওয়া যায় শ্রীলংকার মিহিনটলে অবস্থিত উৎসর্গীকৃত হাসপাতালে , যেখানে রোগীদের জন্য সুষম চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রমাণ পাওয়া যায়।

গ্রীসে, গ্রীক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস যাকে “পশ্চিমা চিকিৎসা শাস্রের জনক বলা হয়”, তিনিই প্রথম ঔষধের যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতির ভিত্তি স্থাপন করেন।

প্রাথমিক চিকিৎসা বলতে কি বুঝায়

প্রাথমিক চিকিৎসা বা ফার্স্ট এইড (ইংরেজি: First aid) কোন ব্যক্তির শারীরিক অক্ষমতা, ক্ষতিগ্রস্ততা বা আঘাতপ্রাপ্তির প্রেক্ষাপটে সাধারণ জ্ঞানের উপর নির্ভর করে অস্থায়ী চিকিৎসাবিশেষ।প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় শনিবার পালিত হয় প্রাথমিক চিকিৎসা দিবস বা first aid day।দুর্ঘটনাজনিত কোন কারণে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ততা ও সঙ্কটাপন্ন হবার হাত থেকে রোগীকে বাঁচাতে প্রাথমিক চিকিৎসা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে থাকে। এর ফলে ভূক্তভোগী ব্যক্তিকে অস্থায়ীভিত্তিতে নিরাপত্তা প্রদান করে উন্নত চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ফলশ্রুতিতে ডাক্তার বা নার্স প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহযোগিতা করে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন কিংবা অন্য কোন বিশেষায়িত হাসপাতালে দ্রুত প্রেরণের সঠিক নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন।

প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের জন্যে তেমন কোন যন্ত্রপাতি বা চিকিৎসা উপকরণের প্রয়োজন পড়ে না; এর প্রধান কারণ হচ্ছে যে-কোন স্থানে ও যেকোনো সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। জরুরী চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসার উপর আগ্রহী ব্যক্তিদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। এর ফলে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ব্যক্তি নির্দিষ্ট স্থানে তথ্য প্রেরণ করেন ও অ্যাম্বুলেন্স আসার পূর্ব পর্যন্ত রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

প্রাথমিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য কি

প্রাথমিক চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য নিম্নবর্ণিত তিনটি বিষয়ের উপর সীমাবদ্ধ –

  • বিপদাপন্ন ব্যক্তির জীবনকে সংরক্ষণ করা। তাকে মৃত্যুর সম্ভাবনা থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা।
  • আরও আঘাতপ্রাপ্তি হওয়া থেকে রক্ষা করা। ভূক্তভোগী ব্যক্তির আঘাত যাতে আরও দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে কিংবা আরও গুরুতর পর্যায়ের দিকে অগ্রসর না হয় সেদিকে নজর রাখা। রক্তপাত বন্ধ করার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া।
  • উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলে ব্যক্তিকে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে প্রেরণ না করা। আঘাতপ্রাপ্তি তেমন গুরুতর নয় এ বিষয়টি ব্যক্তির অন্তঃমনে প্রবেশ করানো। আরোগ্য লাভের জন্যে ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টার প্রয়োগের ন্যায় সাধারণ চিকিৎসা সেবাই অনেকাংশে মূল চিকিৎসায় রূপান্তরিত হতে পারে।

প্রাথমিক চিকিৎসার লক্ষ্য/ উদ্দেশ্য:

  • ক) জীবন রক্ষা করা।
  • খ) রোগীর অবস্থা যাতে আরও অবনতির দিকে না যায় তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
  • গ) আরোগ্য লাভ বা পুনঃরুদ্ধারের অগ্রগতি সাধনে সহায়তা করা।
  • ঘ)  ভাঙ্গা হাড় অনড় রাখা ।
  • ঙ)  ব্যথার উপসম করা।

প্রাথমিক চিকিৎসার নীতি কয়টি ও কি কি

আপনি যখন 3 Ps শব্দটির সাথে পরিচিত হন তখন আপনি প্রাথমিক চিকিৎসা আরও ভালভাবে বুঝতে পারবেন, যার অর্থ সংরক্ষণ, অবনতি প্রতিরোধ এবং পুনরুদ্ধারের প্রচার। এই তিনটি বাক্যাংশ প্রাথমিক চিকিৎসার নীতিগুলির সম্পূর্ণ ধারণাটিকে পুরোপুরি সংজ্ঞায়িত করে। সুতরাং আসুন প্রাথমিক চিকিৎসার নীতিগুলির 3 Ps সম্পর্কে বিস্তৃতভাবে আলোচনা করা যাক:

  • সংরক্ষণ: প্রাথমিক চিকিৎসার প্রথম নীতি হল বিপদ থেকে জীবন রক্ষা করা এবং আরও চিকিৎসার জন্য জরুরি চিকিৎসা সেবাকে কল করা। যাইহোক, যখন আপনি প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করছেন, তখন আপনাকে রোগীকে শান্ত করতে হবে এবং আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সময় শিকারের যত্ন নিতে হবে। আপনি যদি প্রাথমিক চিকিত্সার এই নীতিটি অনুসরণ করতে পারেন তবে আপনি দক্ষতার সাথে আপনার কাজটি সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হবেন।
  • অবনতি প্রতিরোধ: প্রাথমিক চিকিৎসার লক্ষ্য হল জরুরী চিকিৎসা সেবা না আসা পর্যন্ত জীবনকে বিপদ থেকে রক্ষা করা। অতএব, অবনতি রোধ করা প্রাথমিক চিকিৎসার অন্যতম প্রধান নীতি। কিন্তু, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের আগে, আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে রোগীদের আরও আঘাত যেন না ঘটে এবং আপনি কার্যকরভাবে আঘাত বা অসুস্থতার তীব্রতা কমাতে পারেন।
  • পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করুন করুন: প্রাথমিক চিকিৎসার চূড়ান্ত নীতি হল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করুন, যার মধ্যে রয়েছে কল করা এবং চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করা। প্রাথমিক চিকিৎসা অবশ্যই আঘাতের ঝুঁকি কমাতে পারে, তবে আহত ব্যক্তিকে এখনও কিছু পরীক্ষা এবং বিশেষ চিকিত্সার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এটি রোগীদের খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হতে সাহায্য করবে। সুতরাং, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি, আপনাকে চিকিৎসা পরিষেবাগুলিকেও কল করতে হবে।

প্রাথমিক চিকিৎসকের করণীয় কাজ:

ক) কী ঘটেছে খুঁজে বের করা ।

খ) যে কোন বিপদাপদ থেকে সাবধান হওয়া এবং এদের মোকাবেলায় সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ।

গ) রোগীর জখম বা অবস্থার সাথে ধীর-স্থির মস্তিষ্কে এবং দক্ষভাবে মোকাবেলা করা ।

ঘ) হাতের কাছে যা কিছূ পাওয়া যাবে তা কাজে লাগিয়ে সেবা দেওয়া।

ঙ) আহতের পরবর্তী পর্যায়ের ব্যবস্থা করা; বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া অথবা আহতকে হাসপাতালে প্রেরনের ব্যবস্থা করা।

প্রাথমিক চিকিৎসা পদ্ধতি

প্রাথমিক চিকিৎসায় করনীয়ঃ

  • কেটে গেলে: জীবানুনাশক গজ দিয়ে ৫-৭ মিনিট চেপে ধরতে হবে। অতঃপর ডেটল বা সেভলন দ্বারা জায়গাটি পরিস্কার করতে হবে। ড্রেসিং করে জায়গাটি বেধে দিবে। ৫-৭ মিনিটে যদি রক্ত পড়া বন্ধ না হয়, তবে রোগীকে মেডিকেল রুমে নিয়ে আসতে হবে।
  • ক্ষত: চামড়া বা চামড়ার নীচে কোন অংশ কেটে বা ফেটে যাওয়াকে ক্ষত বলে। ক্ষতের সচচেয়ে বড় চিকিৎসা হল পরিস্কার করা। ক্ষত স্থানে প্রায়ই দেখা যায় ব্যাথা থাকে, কালো দাগ হয়ে যায়। রক্তপাত হয় বা ফুলে যায়। ক্ষত স্থানটি জীবানুনাশক গজ দিয়ে বেধে দিতে হবে। এতে ক্ষতস্থানটি সুরক্ষিত থাকে। জীবানুনাশক গজ দিয়ে বাধার আগে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
    • ক্ষত পরিস্কার করার নিয়ম: জীবানুনাশক গজ ব্যবহার করে ক্ষতস্থান পরিস্কার করতে হবে। আরো দূষন যেন না ঘটে এজন্য ক্ষতস্থানের মাঝের দিকে থেকে শুরু করে বাহিরের দিক পরিস্কার করতে হবে। ক্লোরহেক্সিডিন অথবা যে কোন এন্টিসেপ্টিক সলিউশন দিয়ে আস্তে ক্ষত পরিস্কার করতে হবে। তবে ছোটখাটো ক্ষত খোলা রেখে চিকিৎসা করা যাবে।
    • ব্যান্ডেজ: ক্ষতস্থান পরিস্কার রাখার জন্য ব্যান্ডেজ ব্যবহার করা হয়। ব্যান্ডেজের জন্য জীবানুনাশক গজ ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহÍত ব্যান্ডেজ ভিজে গেলে বা তার নিচে নোংরা লেগে গেলে ব্যান্ডিজটি সরিয়ে নিয়ে ক্ষতস্থান আবার ধুয়ে একটি পরিস্কার ব্যান্ডেজ লাগাতে হবে।
  • চোখে ময়লা পড়লে: কিছুক্ষন অপেক্ষা করে দেখতে হবে যে চোখের স্বাভাবিক পানিতে ময়লাটি ধুয়ে যায় কিনা। যদি না যায় তবে নরসল দিয়ে চোখ ধুইয়ে ফেলতে হবে। এতেও যদি ময়লা না যায় তবে পর্যাপ্ত আলোতে এনে হাত দিয়ে আলতোভাবে চোখের পাতা দুইটি পৃথক করতে হবে। যদি ময়লা দেখা যায় তবে পরিস্কার রুমাল দিয়ে ময়লাটি চোখের কোনে এনে বের করতে হবে। যদি এ পদ্ধতিতেও বের করা না যায় তবে মেডিক্যাল রুমে নিয়ে আসতে হবে।
  • নাকে রক্ত আসলে: বেসিনের সামনে মিনিট দশেক নাকে চাপ দিয়ে রাখতে হবে এবং মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নিতে হবে। রক্ত টেনে ভিতরে নেয়া যাবে না। যদি রক্ত বন্ধ না হয় তবে দ্রুত মেডিকেল রুমে নিয়ে আসতে হবে।
  • কোন ব্যক্তি অচেতন হলে: অচেতন ব্যক্তিকে পাশ ফিরিয়ে মাথা নিচু করে শুইয়ে দিতে হবে। তার শ্বাস নিতে কষ্ট হলে তার জিহ্বা কিছুটা সামনের দিকে টেনে দিতে হবে। বমি করলে সাথে সাথে মুখ পরিস্কার করে দিতে হবে। তার মুখে কোন কিছু খাওয়ানো যাবে না।
  • পুড়ে গেলে:পোড়া অংশটি ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিতে হবে এবং যতক্ষন জ্বালা না কমে ততক্ষন আস্তে আস্তে পানি ঢালতে হবে। যদি ফোস্কা পড়ে তবে এক টুকরা পরিস্কার কাপড় দিয়ে জায়গাটি ঢেকে রাখতে হবে। ফোস্কাটি ফাটানো যাবে না। বার্ণ ত্রিম ছাড়া কোন প্রকার ত্রিম বা লোশন পোড়া জায়গায় লাগানো ঠিক নয়।
  • মাথা বা মুখের ক্ষত: যদি মাথা কেটে যায় তবে ক্ষত অংশের উপর জীবানুনাশক গজ দিয়ে চেপে ধরতে হবে। ৫-৭ মিনিটের মধ্যে রক্ত বন্ধ না হলে মেডিকেল রুমে নিয়ে আসতে হবে।
  • প্রচুর রক্তক্ষরন: প্রচুর রক্তক্ষরন হলে আহত অংশটি উচুঁ করে তুলে ধরে জীবানুনাশক গজ দিয়ে ক্ষতস্থানটি চেপে ধরতে হবে। এক নাগাড়ে অন্ততঃ ৫-৭ মিনিট চেপে ধরে রাখতে হবে। এই সময়ের মধ্যে রক্তপাত বন্ধ হয়েছে কিনা তা দেখার জন্য কখনই গজ তোলা যাবে না। যদি রক্তপাত বন্ধ না হয় তবে মেডিক্যাল রুমে নিয়ে আসতে হবে।
  • বিদ্যুতায়িত হলে: কেউ বিদ্যুতায়িত হলে বিদ্যুতের ঐ নিদিষ্ট সুইচটি বন্ধ করে দিতে হবে। সম্ভব না হলে শুকনা লাঠি দিয়ে তাকে বিদ্যুৎ স্পর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এরপর তাকে মাটিতে শুইয়ে মাথা একপাশে কাত করে দিতে হবে। কম্বল দিয়ে তাকে ঢেকে রাখতে হবে যাতে সে উষœ থাকে । পিপাসার্ত হলে তার ঠোট ভেজা কাপড় দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে। রোগী অজ্ঞান হলে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে।
    • শক কি: প্রচন্ড শারীরিক বা মানসিক আঘাতের ফলে শক দেখা দেয়। শক জীবনের জন্য হুমকি স্বরুপ। সাধারনতঃ শরীরের রক্তচাপ বিপজ্জনক মাত্রায় কমে গেলে এ অবস্থায় সৃষ্টি হয়।
    • যেসব ঘটনা থেকে শক দেখা: প্রচন্ড ব্যাথা, শরীরের বিরাট অংশ পুড়ে যাওয়া, প্রচুর রক্তপাত হওয়া, ভীষন অসুস্থতা।
    • শকের লক্ষন: নাড়ির গতি দুর্বল ও দ্রæত, চামড়া ফ্যাকাশে, ঠান্ডা ও ভিজাভিজা, মানসিক অস্থিরতা ও দুর্বলতা, কখনও কখনও চেতনা হারিয়ে যাওয়া, রক্তচাপ খুবই কম।
    • শকের চিকিৎসা: রোগীকে আশ্বস্ত করতে হবে। তার পা মাথার অবস্থান থেকে উচুঁতে রেখে তাকে শুইয়ে রাখতে হবে। রোগী শীত বোধ করলে তার গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিতে হবে। শকের কারন জানা গেলে তা দূর করার চেষ্টা করতে হবে।

প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্সে কি কি থাকে

অফিস আদালতে বা কলকারখানা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ পত্রসহ একটি বক্স সাজিয়ে রাখা থাকে। তাকেই ফার্স্ট এইড বক্স বলে।

একটি FIRST-AID BOX- এ সাধারণত যে সমস্ত জিনিসগুলী রাখা দরকার সেগুলি হল-

১. Broad & Small Bandages.

২. Waterproof bandage.

৩. Butterfly closure strips.

৪. কাঁচি, সেফটি পিন, ব্রাশ, ফিতে, চিমঠি, প্যাড, সুই- সুতো,

৫. Graduated medicine glass.

ওষুধপত্র:-

১. ডেটল, Tincher Iodine, Iodex, Volini বা Moove,

২. Olive oil, বোরোনল, Smelling salt, Soda bircarb, লাল ওষুধ ( পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট), নীল ওষুধ ( Johnson’s Violet), Gum paint, Safromycine, Painkiller, অমৃতধারা, আয়োডিক্স,

৩. ORS, ফিটকিরি, গ্লূকোজ, Betadine, Metoclopramide Tablet

৪. বোরিক পাউডার, ঘা শুকনো করার মলম, Johnson’s Bandage.

ফার্স্ট এইড বক্সে সংরক্ষিত প্রয়োজনীয় সরঞ্জমাদীর নাম ও ব্যবহার নিম্নে দেওয়া হলো:

১. ছোট আকারের জীবানুমুক্ত ব্যান্ডিজ: ছোট কাটা বা ক্ষতস্থানে ঢেকে রাখতে ব্যবস্থা করা হয়।

২. মাঝারী আকারের জীবানুমুক্ত ব্যান্ডিজ: মাঝারি আকারের কাটা বা ক্ষতস্থানে ঢেকে রাখতে ব্যবহার করা হয়। যাতে করে ময়লা ও জীবানু ক্ষতস্থানে প্রবেশ করতে না পারে।

৩. বড় আকারের জীবানুমুক্ত ব্যান্ডিজ: বড় আকারের কাটা বা ক্ষতস্থানে ঢেকে রাখতে ব্যবহার করা হয়। যাতে করে ময়লা ও জীবানু ক্ষতস্থানে প্রবেশ করতে না পারে।

৪. বড় আকারের জীবানুমুক্ত ব্যান্ডিজ (পোড়ার ক্ষেত্রে): সব ধরনের পোড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়না। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। যেমন – শরীরে বড় আকারে পুড়ে গেলে।

৫. (১/২)আউন্স জীবানুমুক্ত তুলা:  ক্ষত স্থানে জীবানু নাশক প্রয়োগ ও ক্ষতস্থানকে পরিষ্কার করা হয়।

৬. ২% আয়োডিন এলকোহলিক দ্রবন: দ্রুত ক্রিয়াশীল বিস্তৃত বর্ণনীয় জীবানু বিনাশকারী দ্রবন, যা অপরিষ্কার হাতকে জীবানুমুক্ত করে। এছাড়া অক্ষত ত্বককে জীবানুমুক্ত করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭. ৪” চওড়া রোলার ব্যান্ডিজঃ মচকে যাওয়া ও ভেঙ্গে যাওয়া স্থানে শক্তভাবে বাধানোর কাজে ব্যবহার করা হয়।যাতে করে খারাপের দিকে যেতে না পারে।

৮. ২” চওড়া রোলার ব্যান্ডিজ: জীবানু মুক্ত গজ যা ক্ষত স্থানকে ঢেকে রাখতে ব্যবহার করা হয়।

৯. এডহেসিভ প্লাষ্টার: ক্ষত স্থানের উপর ব্যান্ডিজকে আটকিয়ে রাখতে ব্যবহার করা হয়।

১০. ত্রিকোণাকৃতি ব্যান্ডিজ: হাতের কনুই ভেঙ্গে গেলে বা মচকে গেলে ত্রিকোণাকৃতি ব্যান্ডিজ ব্যবহার করা হয়।

১১. সেফটি পিন:  রাবার ব্যান্ডেজের ক্ষেত্রে ইহা ব্যবহার করা হয়।

১২. রেক্টিফাইড স্প্রিট: রক্ত বন্ধ করার জন্য এবং ক্ষত স্থানকে পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

১৩. টর্নিকুয়েট: রক্তপাত বন্ধ করার উপকরন হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

১৪. বাঁেশর / কাঠের চটি: ভেঙ্গে যাওয়া বা মচকে যাওয়া স্থানে বাশের চটি দিয়ে শক্ত করে বেঁেধ দিতে হয়।

১৫. খাবার স্যালাইন: অতিরিক্ত ঘাম অথবা পাতলা পায়খানারদ্বারা পানি শূন্যতা দেখা দিলে খাবার স্যালাইন খেতে হবে।

১৬. হেক্সিসল: হাত ও অক্ষত ত্বকের উপরে ব্যবহার করা হয়।

১৭. গজের টুকরা: ক্ষত স্থানে জীবানু নাশক প্রয়োগে ব্যবহার করা হয়।

১৮. সিল ক্রিম / বার্ণ ক্রিম: পুড়ে যাওয়া অংশে লাগানো হয়।

১৯. স্যাভলন ক্রিম: ক্ষত স্থানের রক্ত ক্ষরন বন্ধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

২০. পভিসেফ: ক্ষত স্থানকে জীবানু মুক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

২১. আই ওয়াশ: চোখ পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

২২. সার্জারিক্যাল কাঁচি: প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহারিত উপকরনাদি কাটার জন্য ব্যবহার করা হয়।

২৩. সার্জারিক্যাল হ্যান্ড গ্লাভস: কাটা ছিড়া সেলাই ও রক্ত পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহারিত হয়।

২৪. ইলাষ্টিক / ওয়ান টাইম ব্যন্ডিজ: জীবানু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ব্যবহারিত হয়।

২৫. নিক্স: মাথা ব্যাথার উপশম হিসেবে ব্যবহারিত হয়।

২৬. এন্টাসিড ট্যাবলেট: গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা অনুভব হলে খেতে হবে।

২৭. প্রচার পত্র: আহত কিংবা অসুস্থ হলে করনীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা।

প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

প্রাথমিক চিকিৎসা হলো সামান্য বা গুরুতর অসুস্থতা বা আঘাতজনিত যেকোনো ব্যক্তিকে জীবন রক্ষা করতে, অবস্থার অবনতি থেকে বাঁচতে বা পুনরুদ্ধারের জন্য যত্নসহকারে দেওয়া প্রথম বা তাৎক্ষণিক সহায়তা।

প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব

সুরক্ষা বাড়ায়:

প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণের ভিত্তি হলো ‘প্রতিরোধ’। ‘দুঃখিত’ হওয়ার চেয়ে নিরাপদ থাকা সব সময় ভালো। প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞানটি মানুষের মধ্যে সুরক্ষা ও সুস্বাস্থ্যের বোধকে উৎসাহ দেয়, তারা আশপাশে যে পরিবেশে বাস করে, তাদের আরও সচেতন ও নিরাপদ হতে উৎসাহ দেয়।

ব্যথা উপশম করতে সহায়তা করে:

কিছু আঘাতের জন্য আইস প্যাক লাগানো বা দ্রুত ঘষার মতো খুব সাধারণ সমাধান প্রয়োজন। কিছু কিছু সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। এ ক্ষেত্রে, প্রাথমিক চিকিৎসা কোর্সে প্রশিক্ষিত একজনের সহায়তাই যথেষ্ঠ। প্রাথমিক চিকিৎসার সহজ পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করে ব্যথা কমাতে সহায়তা করা যায় এবং কমপক্ষে অস্থায়ীভাবে ব্যথা উপশম করা যেতে পারে।

জীবন বাঁচাতে সহায়তা করে:

প্রাথমিক চিকিৎসা প্রয়োগে আশপাশে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে এবং দুর্ঘটনা কবলিত মানুষের জীবন বাঁচানো যেতে পারে। দুর্ঘটনা কবলিত অবস্থায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি ট্রমাজনিত পরিস্থিতিতে বেশি উপকার করতে পারেন।

পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে বাধা দেয়:

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি জানেন কীভাবে পরিস্থিতিকে খারাপ থেকে আরও খারাপ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা যায়। পেশাগত সহায়তা না আসা পর্যন্ত তারা অস্থায়ী চিকিৎসা সরবরাহ করবে, যা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অবস্থার অবনতি থেকে রক্ষা করবে।

জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসহায়তার প্রয়োজনে অনেক লোক মারা যাওয়ার কারণ প্রাথমিক চিকিৎসার অভাব। প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান আপনার নিজের জন্য যেমন তেমনি আপনার আশপাশের মানুষের জন্যও মূল্যবান। সহায়তা না আসা পর্যন্ত দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে পড়লে আহত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে আপনাকে সক্ষম করে তুলবে প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান।

প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা

প্রাথমিক চিকিৎসা একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে

প্রাথমিক চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয় কারণ জরুরী পরিস্থিতিতে সময়মত সাহায্য আহত ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে পারে। বেশিরভাগ চিকিৎসা জরুরী পরিস্থিতিতে, এটি সর্বদা সময়ের বিরুদ্ধে একটি প্রতিযোগিতা, এবং সঠিক সময়ে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুরুতর পরিস্থিতিতে, একজন অসুস্থ বা আহত ব্যক্তি যথাযথ চিকিৎসা সেবা না আসা পর্যন্ত স্তব্ধ অবস্থায় থাকতে পারে না।

অধিকন্তু, দুর্ঘটনার স্থান বা আহত ব্যক্তির অবস্থান অনেক দূরে হতে পারে এবং পেশাদারদের কাছে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগবে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে, অসুস্থ বা আহত ব্যক্তি যদি একজন প্রশিক্ষিত পেশাদার বা মৌলিক জীবন সমর্থন দক্ষতা বা CPR কৌশল জানেন এমন কেউ দ্বারা বেষ্টিত থাকে, তাহলে তারা সহজেই একজন ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে সময়মতো কাজ করতে পারে।

প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যথা উপশম করে

বেশিরভাগ চিকিৎসা জরুরী অবস্থা এবং আঘাতজনিত পরিস্থিতিতে ব্যক্তি আহত হওয়ার সাথে সাথে ব্যথা শুরু হয়। এমনকি অ-জীবন-হুমকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও এটি সত্য যেগুলি জড়িত যন্ত্রণাদায়ক ব্যথার কারণে অবিলম্বে যত্নের দাবি রাখে। যদি অসুস্থ বা আহত ব্যক্তির সাথে প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষিত কেউ থাকে, তবে তারা ব্যথা উপশমকারীকে ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে কিছু ব্যথা উপশম পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারে।

একজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তি নির্দিষ্ট ব্যথা উপশমের পদ্ধতিগুলি বুঝতে পারদর্শী এবং বুদ্ধিমান যেমন পেশীর ক্ষতগুলিতে একটি ঠান্ডা প্যাক প্রয়োগ করা, পোড়ার উপর বরফ ঠান্ডা জল ঢেলে দেওয়া এবং ব্যথা উপশমের জন্য আহত ব্যক্তিকে তাত্ক্ষণিক ব্যথা উপশম ওষুধ দেওয়া।

প্রাথমিক চিকিৎসা সংক্রমণ এবং এর সম্ভাবনা রোধ করে

যখন কেউ আহত হয়, দগ্ধ হয় বা অন্য কোন আঘাত পায়, তখন তাদের যে ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় তা পরবর্তীতে তাদের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণ করে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং একটি নির্দিষ্ট আঘাতের জন্য সঠিক চিকিত্সা বিকল্পের পছন্দ ছাড়া, জিনিসগুলি আরও খারাপ হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, কিছু লোক কাটা আঘাতের জীবাণুমুক্তকরণের জন্য হাইড্রোজেন পারক্সাইড ব্যবহার করার পক্ষে। যদিও, বাস্তবে, এটি বিপরীত করে কারণ এটি কোষগুলির ক্ষতি করে যা ক্ষত দ্রুত নিরাময়কে উত্সাহ দেয়। সঠিক ধরনের প্রশিক্ষণ, এবং পরিষ্কার, স্বাস্থ্যকর, এবং জীবাণুমুক্ত সরবরাহ (পরিষ্কার ব্যান্ডেজ, এন্টিসেপটিক দ্রবণ, সাবান, পরিষ্কার জল এবং পেট্রোলিয়াম জেলি) দিয়ে, কেউ নিরাময় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি দূর করতে পারে। এখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে কাজ করে।

প্রাথমিক চিকিৎসা শিশুদের নিরাপদ রাখে

শিশুরা (ছোট শিশু এবং শিশু সহ) আহত হওয়ার এবং চিকিৎসা জরুরী পরিস্থিতিতে জড়িত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। শিশুরা বিশ্ব অন্বেষণ করতে ভালোবাসে, প্রায়শই তত্ত্বাবধানের বাইরে থাকে এবং ঝুঁকি না বুঝেই সবসময় খেলা করে। এমনকি আপনি একজন মনোযোগী অভিভাবক হলেও, শিশুরা এত দ্রুত ঘোরাফেরা করছে যে দুর্ঘটনা এড়ানো প্রায় অসম্ভব। শিশুরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এমন আঘাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

যাইহোক, শিশুদের মধ্যে খিঁচুনি হওয়া একটি সাধারণ ঘটনা এবং এর পিছনে কোন স্পষ্ট কারণ নেই। যদি অভিভাবক বা সন্তানের তত্ত্বাবধায়ক প্রাথমিক চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ হন এবং ছোটখাটো পোড়া, কাটা এবং খিঁচুনিগুলির মতো বড় ধরনের ক্ষতগুলি পরিচালনা করার কৌশল জানেন তবে শিশুদের নিরাপদ রাখা সহজ।

প্রাথমিক চিকিৎসা চিকিৎসা পেশাদারদের সাথে আরও ভাল যোগাযোগ করতে সাহায্য করে
আপনি যদি একজন আহত বা অসুস্থ ব্যক্তির আশেপাশে থাকেন এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রস্তাব দিয়ে থাকেন, তাহলে প্যারামেডিক বা অ্যাম্বুলেন্স না আসা পর্যন্ত আপনি তাদের সাথে থাকতে পারেন। যেহেতু আপনি একটি আঘাতের ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং কী ঘটেছে তা জানেন, আপনি পরিস্থিতি এবং তাদের যে ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন সে বিষয়ে আপনি কার্যকরভাবে চিকিৎসা পেশাদারদের সংক্ষিপ্ত করতে পারেন।

যে ব্যক্তি আঘাতের শিকার হয়েছেন এবং জরুরী অবস্থা থেকে বেঁচে গেছেন তিনি হয়তো চিকিৎসা পেশাদারদের সাথে কথা বলার জন্য সঠিক মনের মধ্যে নেই। আপনি জরুরী অবস্থার একটি বিশদ বিবরণ প্রদান করতে পারেন, কী ঘটেছিল এবং এটি দেখতে কেমন ছিল৷ ট্রমা সাইটে এই তথ্য চিকিৎসা পেশাদারদের জন্য চিকিত্সার পরবর্তী কোর্সের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাথমিক চিকিৎসা পুনরুদ্ধারের সময় হ্রাস করে

জরুরী সময়ে আহত ব্যক্তিকে সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা ও চিকিৎসা সেবা না দেওয়া মারাত্মক হতে পারে। অন্যদিকে, তারা বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করলেও, সঠিক চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার কারণে তারা দীর্ঘস্থায়ী পুনরুদ্ধারের সময় মোকাবেলা করতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, যদি সড়ক দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত রোগীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং চিকিৎসা সহায়তা আসার আগে তা বন্ধ করার জন্য যথাসময়ে সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা না দেওয়া হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি যথেষ্ট পরিমাণে রক্ত হারায়, নিম্ন রক্তচাপ হয় এবং হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

মাল্টি-অর্গান ফেইলিউরে যাচ্ছে। এটি অসাবধানতাবশত আহত ব্যক্তির পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করবে এবং তাদের মাঝারি থেকে গুরুতর পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে বাধ্য করবে। প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষিত একজন ব্যক্তি যদি রক্তপাত বন্ধ করে দেন, তাহলে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হয়ে যায়।

প্রাথমিক চিকিৎসা স্বাস্থ্যসেবা খরচ বৃদ্ধি থেকে বাঁচায়

কাউকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হল তাদের জীবন বাঁচানো। যাইহোক, এর পাশাপাশি, যদি কাউকে সময়মতো প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, তবে এটি সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন হয় বা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। একটি ছোটখাট কাটা, পোড়া বা ক্ষত সঠিকভাবে পরিচালনা করা এটিকে আরও খারাপ করার সম্ভাবনা রোধ করতে অনেক দূর এগিয়ে যায়।

ফার্স্ট এইড সমস্যাটিকে ক্রমবর্ধমান হওয়া থেকে প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। যদিও আরও ব্যবস্থাপনার জন্য ডাক্তার বা হাসপাতালে যাওয়া এখনও যৌক্তিক বলে মনে হতে পারে, তবে চিকিত্সার খরচ খুব বেশি হবে না। কর্মক্ষেত্রে যথাযথ প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ একজন ব্যক্তিকে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতেও সাহায্য করে কারণ ছোট দুর্ঘটনাগুলি বড় হওয়ার আগেই সঠিক সময়ে পরিচালনা করা যেতে পারে এবং রোগীকে প্রচুর অর্থ প্রদান করতে হয়।

বিভিন্ন স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা জরুরী অবস্থা পরিচালনা করার সময় সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা সর্বদা একটি বড় অবকাশ হিসাবে আসে। আহত ব্যক্তির জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি, এটি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াটিকে দ্রুততর করতে সাহায্য করে, বিপুল স্বাস্থ্যসেবা খরচ বাঁচায় এবং আঘাতের সম্ভাবনাকে আরও খারাপ হতে বাধা দেয়। আমরা আশা করি আমরা এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে সমস্ত পয়েন্ট কভার করেছি।

সাপে কাটা রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা

  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে বারবার আশ্বস্ত করতে হবে এবং সাহস দিতে হবে, আতঙ্কগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না। নির্বিষ সাপের কামড়েও আতঙ্কিত হয়ে মানসিক আঘাতে মারা যেতে পারে মানুষ। বাংলাদেশের অধিকাংশ সাপই বিষহীন, অল্প কিছু সাপ বিষধর। আবার বিষধর সাপ পর্যাপ্ত বিষ ঢুকিয়ে দিতে ব্যর্থ হতে পারে। এসব জানানোর মাধ্যমে রোগীকে আশ্বস্ত করা যেতে পারে।
  • আক্রান্ত অঙ্গ অবশ্যই স্থির রাখতে হবে। হাতে কামড়ালে হাত নাড়ানো যাবে না। পায়ে  কামড়ালে হাঁটাচলা করা যাবে না, স্থির হয়ে বসতে হবে।
  • আক্রান্ত অঙ্গ ব্যান্ডেজের সাহায্যে একটু চাপ দিয়ে প্যাঁচাতে হবে। একে প্রেসার ইমোবিলাইজেশন বলে। ব্যান্ডেজ না পাওয়া গেলে গামছা, ওড়না বা এ জাতীয় কিছু ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • আক্রান্ত স্থান সাবান দিয়ে আলতোভাবে ধুতে হবে অথবা ভেজা কাপড় দিয়ে আলতোভাবে মুছতে হবে।
  • ঘড়ি বা অলঙ্কার বা তাবিজ, তাগা ইত্যাদি পড়ে থাকলে খুলে ফেলুন।
  • রোগীকে আধশোয়া অবস্থায় রাখুন।
  • যদি রোগী শ্বাস না নেন তাহলে তাকে মুখে শ্বাস দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
  • যদি সাপটিকে ইতোমধ্যে মেরেই ফেলেন, তাহলে সেটি হাসপাতালে নিয়ে আসুন। তবে এ ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কোনোভাবেই হাত দিয়ে ধরা যাবে না। কিছু সাপ মরার ভান করে থাকে। তবে সাপ মারতে গিয়ে অযথা সময় নষ্ট করবেন না।
  • যত দ্রুত সম্ভব আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
আরো অন্যান্য সরকারি স্কিম সম্পর্কে জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন 

FAQ | প্রাথমিক চিকিৎসা

Q1. হার্ট এটাক এর প্রাথমিক চিকিৎসা

Ans – ১। প্রথমেই রোগীকে রিল্যাক্সড অবস্থায় নিয়ে আসুন। দেওয়ালে হেলান দিয়ে মাটিতে বসান। ঘাড়, মাথা কাঁধ হেলান দিয়ে হাঁটু মুড়ে রোগীকে বসালে রক্তচাপ কমবে।
২। রোগীর যদি অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জি না থাকে তবে অ্যাসপিরিন দিন। এই সময় ৩০০ গ্রাম অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খেতে পারলে ধাক্কা অনেকটাই সামলানো যাবে।
৩। এই সময় রোগী শক পেতে পারেন। জীবনের ঝুঁকি রয়েছে বুঝতে পারলে শক পাওয়া খুব স্বাভাবিক।
৪। ক্রমাগত শ্বাস, পালস রেট ও রোগী কেমন সাড়া দিচ্ছেন তা চেক করতে থাকুন।
৫। রোগী যদি অজ্ঞান হয়ে যায় তবে সিপিআর-এর সাহায্য নিন।

Q2. বৈদ্যুতিক শক এর প্রাথমিক চিকিৎসা

Ans – কারেন্টের শক লেগে অনেক সময়ই দেহের কিছুটা অংশ পুড়ে যায়। এই পরিস্থিতির শিকার হলে প্রথমেই জায়গাটা খুব ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে স্বচ্ছ জীবাণুমুক্ত জল দিয়ে জায়গাটা ধুয়ে ফেলুন। তারপর সেখানে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কোনও মলম লাগান।

আপনি কি চাকরি খুজঁছেন, নিয়মিত সরকারিবেসরকারি চাকরির সংবাদ পেতে ক্লিক করুন। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে মানব সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাড়ার জন্য, ক্লিক করুন। হিন্দিতে শিক্ষামূলক ব্লগ পড়তে, এখানে ক্লিক করুন। এছাড়াও, স্বাস্থ, টেকনোলজি, বিসনেস নিউস, অর্থনীতি ও আরো অন্যান্য খবর জানার জন্য, ক্লিক করুন

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট শেয়ার করতে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।