সম্পদ কাকে বলে

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট শেয়ার করতে

সূচিপত্র

সম্পদ কাকে বলে কত প্রকার

কোন উপাদান বা উপকরণ যখন তার উপযোগীতাকে কার্যকর করে মানুষের অভাব মোচন করে বা চাহিদা পূরণ করে, তখন তাকে সম্পদ বলে।

অধ্যাপক জিমারম্যানের মতে সম্পদ

“সম্পদ বলতে কোন বস্তু বা পদার্থ কে বোঝায় না, ওই বস্তু বা পদার্থের মধ্যে যে কার্যকর শক্তি নিহিত থাকে তাকেই সম্পদ বলে।”

এনসাইক্লোপিডিয়া অব দ্য সোশ্যাল সায়েন্সে সম্পদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে-সম্পদ হলো মানুষের পরিবেশের সেই সমস্ত বিষয় সমূহ, যা মানুষের চাহিদা পূরণ করে ও সামাজিক উদ্দেশ্য সাধন করে বা উদ্দেশ্য সাধনে সহায়তা করে।

সম্পদের শ্রেণীবিন্যাস, সম্পদ কত প্রকার

সম্পদের শ্রেণীবিন্যাস নিম্নে উপস্থাপন করা হলো। সম্পদ বেশ কয়েক ভাবে শ্রেণীবিন্যাস করা হয়। এবং সেই শ্রেণীবিন্যাস গুলো উপাদানসমূহ নিম্নে আলোচনা করা হয়েছে-

সম্পদ সৃষ্টির উপাদান অনুসারে

প্রাকৃতিক সম্পদ

যে সকল উপকরণ প্রকৃতি প্রদত্ত হয়ে থাকে এবং সেই সকল উপকরণ মানুষের অভাব মেটাতে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করে থাকে তাকেই প্রাকৃতিক সম্পদ বলে। যেমনঃ মাটি, পানি, বায়ু, গ্যাস, গাছপালা ইত্যাদি।

মানবিক সম্পদ

যে সকল বস্তু বা উপকরণ প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠে না অর্থাৎ মানুষ নিজেই তৈরি করে থাকে সেই সকল উপকরণ বা বস্তুকে মানবিক সম্পদ বলে। যেমনঃ জনসমষ্টি, শ্রমিকের কর্মদক্ষত ইত্যাদি।

সাংস্কৃতিক সম্পদ

যে সকল উদ্ভাবনী শক্তি সমূহ সাহায্যে মানুষের নিরপেক্ষ উপাদান গুলি কে সম্পদে পরিণত করে সেই সকল সম্পর্কে সাংস্কৃতিক সম্পদ বলে। যেমনঃ কারিগরি দক্ষতা, শিক্ষা, বিজ্ঞানসম্মত কর্মদক্ষতা ইত্যাদি।

সম্পদের জৈবিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে

জৈব সম্পদ

যে সম্পদ জীব বস্তু এবং উদ্ভিদ থেকেআহরণ করা হয় সেই সকল সম্পত্তি জৈব বস্তুর বলা হয়। যেমনঃ কয়লা থেকে যখন চুনাপাথর তৈরি করা হয় তখন ওই চুনাপাথর জৈব সম্পদ হবে।

অজৈব সম্পদ

যে সকল জড়বস্তুর প্রাণ নেই সেই সকল বস্তু দিয়ে যেসব তৈরি করা হয় সে সকল সম্পদ সম্পদ বলে। যেমনঃ মাটি, পানি, ধাতব, খনিজ ইত্যাদি.

সম্পদের স্থায়িত্ব বা ক্ষয়িষ্ণু তা অনুসারে

গচ্ছিত বা অপুনর্ভব সম্পদ

যে সকল বস্তু বা উপকরণের পরিমাণ কম এবং ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে শেষ হয়ে যায় সে সকল বস্তু বা উপকরণকে গচ্ছিত বা অপুনর্ভব সম্পদ বলে। যেমনঃ বাতিল লোহা বা ইস্পাত।

অবাধ বা প্রবাহমান বা অক্ষয়িষ্ণু সম্পদ

যে সকল বস্তু বা উপকরণ ব্যবহার করার ফলে নিঃশেষ হয়ে যায় না সেই সকল সম্পদকে অবাধ বা প্রবাহমান বা অক্ষয়িষ্ণু সম্পদ বলে। যেমনঃ বাতাস, পানি ইত্যাদি।

পুনর্ভব সম্পদ বা পূরণ শীল সম্পদ

প্রকৃতিতে এমন কিছু বস্তু বা উপকরণ রয়েছে যেগুলো প্রবাহমান ব্যবহার করার ফলে সাময়ীকভাবে কমে যায় কিন্তু নিঃশেষ হয়ে যায় না। এবং নির্দিষ্ট সময়ের পরে আবার পুনরায় তা পূরণ হয়ে যায় সে সকল সম্পর্কে পুনর্ভব সম্পদ বা পূরণ শীল সম্পদ বলে। যেমনঃ নদী বা সাগরের মাছ।

সম্পদের অসম বন্টন অনুসারে

সর্বত্র লভ্য সম্পদ

যেসকল প্রাকৃতিক সম্পদ পৃথিবীর সর্বত্রই পাওয়া যায় সে সকল সম্পদের সর্বত্র লভ্য সম্পদ বলে। যেমনঃ বাতাস।

সহজলভ্য সম্পদ

যে সকল প্রাকৃতিক সম্পদ পৃথিবীর সব জায়গায় খুব সহজেই পাওয়া যায় এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য সেইসকল সম্পর্কে সহজলভ্য সম্পদ বলে। যেমনঃ কৃষিজমি, বনভূমি ইত্যাদি।

দুষ্প্রাপ্য সম্পদ

পৃথিবীতে এমন কিছু সম্পদ আছে যেগুলো খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে যায়। সেই সকল সম্পদ কে দুষ্প্রাপ্য সম্পদ বলে। যেমনঃ টিন একটি সম্পদ। এটি শুধুমাত্র মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়া এবং বলিভিয়াতে পাওয়া যায়।

একমাত্র লভ্য সম্পদ

পৃথিবীতে এমন কিছু সম্পদ রয়েছে যেগুলো শুধুমাত্র একটি মাত্র স্থানে খুঁজে পাওয়া যায় সেই সকল সম্পর্কে একমাত্র লভ্য সম্পদ বলে। যেমনঃ ক্রায়োলাইট যা শুধুমাত্রগ্রীনল্যান্ডে পাওয়া যায়।

সম্পদের মালিকানা অনুসারে

ব্যক্তিগত সম্পদ

যে সকল সম্পদ শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির নিজস্ব সম্পদ সে সম্পর্কে ব্যক্তিগত সম্পদ বলে। যেমনঃ নিজ জমি, বাড়ি, গহনা, ইত্যাদি।

সামাজিক সম্পদ

যে সকল সম্পদ সমাজের অধীনস্থ থাকে এবং সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষ ব্যবহার করতে পারে সে সকল সম্পর্কে সামাজিক সম্পদ বলে। যেমনঃ হাসপাতাল, স্কুল ইত্যাদি।

জাতীয় সম্পদ

যে সকল সম্পদ ব্যক্তিগত নয় কিন্তু সারাদেশের বা জাতীয় পর্যায়ের সকল মানুষ ব্যবহার করতে পারে সেই সকল সম্পর্কে জাতীয় সম্পদ বলে। যেমনঃ খনিজ সম্পদ।

সর্বজনীন সম্পদ

কিছু কিছু সম্পদ রয়েছে যা কোনো ব্যক্তি বা জাতি বা দেশের নিজস্ব নয় কিন্তু সকল ব্যক্তিবর্গ ব্যবহার করতে পারে সে সম্পর্কে সর্বজনীন সম্পদ বলা হয়। যেমনঃ সমুদ্রের তলদেশে খনিজ সম্পদ।

সম্পদের প্রাপ্যতা অনুসারে

বিকশিত সম্পদ

যে সকল সম্পদ শুধুমাত্র আবদ্ধ অবস্থায় নেই কিন্তু ক্রমাগত এর ব্যবহার করা হচ্ছে সেসকল সম্পদকে বিকশিত সম্পদ বলে। যেমনঃ জাপানের বিদ্যুৎ শক্তি।

সম্ভাব্য সম্পদ

যে সকল সম্পদের অস্তিত্ব রয়েছে এবং এর ব্যবহারযোগ্যতা থাকার শর্তেও প্রাকৃতিক অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক কারণে সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে না সে সকল সম্পদকে সম্ভাব্য সম্পদ বলে। যেমনঃ কঙ্গো গণপ্রজাতন্ত্র জলবিদ্যুৎ শক্তি।

সম্পদ কাকে বলে সম্পদের বৈশিষ্ট্য, সম্পদের বৈশিষ্ট্য কয়টি

নিম্নে এ সম্পর্কে কিছু বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন করা হলো-

কার্যকারিতা

আমরা সব কিছুকে সম্পদ বলে মনে করি না। তার কারণ হচ্ছে আমরা যখন কোন বস্তুর ব্যবহার করে আমাদের প্রয়োজন এবং মেটাতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ঐ বস্তুর সাহায্য প্রয়োজন হয় তখন তাকে সম্পদ বলে বিবেচনা করে থাকি। যেমনঃ স্বর্ণের গহনা সম্পদ নয়, এই স্বর্ণের গহনা যখন আমাদের চাহিদা পূরণে সাহায্য করে তখন তাকে আমরা সম্পদ বলে থাকি।

গ্রহণযোগ্যতা

সম্পদ ব্যবহার করার পূর্বে সকল জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্পদের গ্রহন যোগ্যতা থাকতে হবে। নতুবা সম্পদের সঠিক ব্যবহার করা যাবে না।

সুগম্যতা

যে কোন বস্তুকে সম্পদে পরিণত করতে হলে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার থাকা প্রয়োজন। ওই সম্পদ ব্যবহার ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং সম্পদ ব্যবহার করতে ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে। যেমনঃ হিমালয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করার জন্য অবশ্যই পরিবহন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

সীমিত সরবরাহ

যে কোন সম্পদের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সীমিত যোগান। কিন্তু কিছু কিছু সম্পদ অফুরন্ত হয়ে থাকে। তবে প্রাকৃতিক সম্পদের যোগান সীমাবদ্ধ থাকে। যেমনঃ খনিজ সম্পদ।

সর্বজনীন চাহিদা

সম্পদ বলতে আমরা তাকেই বুঝি যখন সম্পদের চাহিদা ব্যাপক ভাবে সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এবং মানুষের কাছে সেই সম্পদের চাহিদা, অভাব এবং প্রয়োজন হয় এবং সেগুলো পূর্ণ করে থাকে। যেমনঃ পানি, বায়ু, প্রাকৃতিক তেল, গ্যাস ইত্যাদি।

উপযোগিতা

যে সকল বস্তু বা উপকরণের উপযোগিতা রয়েছে সে সকল বস্তু কে সম্পদ বলে আখ্যায়িত করা হয়। এবং সে সকল সম্পদ ব্যবহার করে মানুষের চাহিদা এবং প্রয়োজন মেটাতে পারে।যেমনঃ খাদ্যশস্য মানুষের খাদ্য যোগান দিয়ে থাকে। সুতরাং সকল খাদ্য উপযোগিতা রয়েছে এখানে খাদ্য সম্পদ বলে আখ্যা পেয়েছে।

পরিবেশ মিত্রতা

সম্পদ রক্ষা করার জন্য সম্পদের পরিবেশ মিত্রতা থাকা প্রয়োজন। নতুবা দেখা যাবে প্রাকৃতিক উদ্ভিদ এবং প্রাণী জগতের সকল সম্পদ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে আর সুরক্ষিত নেই। সুতরাং মানুষের শিক্ষা প্রযুক্তি ও সচেতনতা কে কাজে লাগিয়ে মানুষের মধ্যে পরিবেশ মিত্রতা গড়ে তুলতে হবে। নতুবা প্রাকৃতিক সকল উদ্ভিদ এবং প্রাণী ধ্বংসের সম্মুখীন হবে।

ক্ষয়শীলতা

সম্পদের অন্যতম একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ক্ষয়শীলতা। ক্ষয়শীলতাকে বিলোপ প্রবণতা বলে থাকে। যেকোনো একটি সম্পদ যদি মানুষ ক্রমাগতভাবে ব্যবহার করতে থাকে তখন সেই সম্পদটি ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। যেমনঃ মাটির নিচ থেকে যে কোন খনিজ সম্পদ ক্রমাগতভাবে উত্তোলন করার ফলে সেই সম্পদ একসময় ক্রাশ হয়ে যায়।

প্রয়োগ যোগ্যতা

যে সকল বস্তু যত ভালো মানুষের চাহিদা এবং প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম সেই সকল বস্তু মানুষের কাছে ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।যেমনঃ ইস্পাত এর প্রয়োগ ক্ষমতা বেশি থাকার যোগ্যতা বেশি।

সম্পদ সংৰক্ষণ কি, সম্পদ সংৰক্ষণ তিনিটা উপায়, সম্পদ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কি

সম্পদ মানুষের অভাব পূরণের মাধ্যম কিন্তু গচ্ছিত বা অপুনর্ভব সম্পদগুলি একদিন পৃথিবী থেকে লুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সম্পদের জোগান অব্যাহত রাখা, সম্পদের আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি করা, জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পুনর্ভব সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব ইত্যাদি কারণগুলোর জন্য সম্পদ সংরক্ষণ একান্ত জরুরী। সম্পদ সংরক্ষণের সম্ভাব্য উপায় গুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। 

A. ব্যবহারের বাহুল্য হ্রাস – অতিমাত্রায় সম্পদ ব্যবহার করলে শীঘ্রই তা বিনাশপ্রাপ্ত হবে। তাই প্রয়োজন ভিত্তিক উৎপাদন ও ব্যবহার সম্পদের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ সহায়ক হবে।

B. পরিবর্ত দ্রব্য ব্যবহার – ক্ষয়িষ্ণু সম্পদের ব্যবহার কমিয়ে প্রবাহমান সম্পদের ব্যবহার বাড়ালে সংরক্ষিত হয়। যেমন- বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার কম করে জল বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে কয়লা সংরক্ষিত হয়।

C. অগ্রাধিকার ভিত্তিক ব্যবহার – যে ব্যবহারে অধিক প্রয়োজন মিটবে সেই উদ্দেশ্যে উক্ত সম্পদের ব্যবহার সংরক্ষণে সহায়তা করে। যেমন- বিদ্যুৎ উৎপাদনে খনিজ তেল ব্যবহার না করে পরিবহন কাজে ব্যবহার করলে খনিজ তেলের সাশ্রয় হয়।

D. উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে বস্তুর কার্যকারিতা বৃদ্ধি – সরাসরি কোন বস্তু বা পদার্থকে ব্যবহার না করে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ব্যবহার করলে তার উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং তা সংরক্ষনে সহায়তা করে।

E. অপচয় রোধ ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ব্যবহার – সম্পদ উৎপাদন ও ব্যবহারের সময় যাতে অপচয় না হয় তা লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন – বিদ্যুৎ সঞ্চয় করে রাখা যায় না, কিন্তু কয়লা সঞ্চিত রাখা যায়। তাই কয়ল পুড়িয়ে চাহিদার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে কয়লার অপচয় ঘটে। আবার, বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে খনিজ সম্পদ উত্তোলন করলে উত্তোলন করলে উত্তোলন কালে অপচয় বন্ধ হয়। যেমন – অভ্র উত্তোলনের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে তা ভেঙে নষ্ট না হয়। 

F. সম্পদের পুনর্ব্যবহার – একই বস্তু যদি উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে আবার ব্যবহার করা যায় তবে সম্পদে সাশ্রয় ঘটে। যেমন – লোহা ও ইস্পাত শিল্প কাঁচামাল হিসেবে বর্জ্য লোহার ব্যবহার আকরিক লোহা সংগ্রহ করে। একই ভাবে অ্যালুমিনিয়াম, তামা, দস্তা, সিসা ইত্যাদি ধাতব দ্রব্য গুলির পুন:ব্যবহার করা সম্ভব। 

G. কারিগরি উৎকর্ষতা বৃদ্ধি – কারিগরি উৎকর্ষতা বাড়লে কম কাঁচা মাল দিয়ে বেশি পরিমাণে শিল্প দ্রব্য উৎপাদন করা সম্ভব। যেমন – পূর্বে প্রায় 4 টন কয়লা  দিয়ে মাত্র 1 টন ইস্পাত উৎপাদন করা যেত। কিন্তু বর্তমানে 1 টন কয়লা দিয়েই 1 টন ইস্পাত উৎপাদন করা যায় বলে কয়লা সাশ্রয় হয়। 

H. উৎপাদনের বিশেষীকরণ – উৎপাদনে বিশেষীকরণ এর জন্য শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সম্পদের গুণমান ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায় । এটি  সম্পদ সংরক্ষণে সহায়ক। 

I. সম্পদের পুনঃস্থাপন – পূরণ শীল  সম্পদ গুলো ভোগের সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় উৎপাদন করলে সম্পদের ভারসাম্য বজায় থাকে। যেমন – গাছ কাটার পাশাপাশি নতুন নতুন চারা গাছ রোপণ করলে বা মৎস্য সংগ্রহের সঙ্গে সঙ্গে মৎস্য সৃজনের কাজ করলে সম্পদ সংরক্ষণ হয়। 

J. সম্পদ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি – সম্পদ সচেতনতা সাধারণ মানুষ সহ সরকারী বেসরকারী সমস্ত স্তরে বাড়লে অর্থনৈতিক কাজকর্ম এ সম্পদের সংরক্ষণ ও উৎকর্ষ সাধিত হয়। 

K. সামাজিক প্রকল্প গ্রহণ – সামাজিক প্রকল্প গুলির মাধ্যমে বনসৃজন করলে একদিকে যেমন কাঠের জোগান বৃদ্ধি পাবে, অন্য দিকে ভূমিক্ষয় বন্ধ হয়ে জমির উর্বরতা ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, হ্রাস পাবে খরা ও বন্যার প্রবণতা। এইভাবে নানাবিধ সামাজিক প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে একদিকে যেমন – বর্তমান ও ভবিষ্যতের সম্পদ সৃষ্টির পথ সুগম হবে, অন্যদিকে তেমনি ভবিষ্যতের জন্য বর্তমানের সম্পদ সংরক্ষণেও তা সাহায্য করবে।

L. সরকারী নীতি – জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অনেক দেশ নিজস্ব সম্পদ কম ব্যবহার করে অন্য দেশ থেকে সম্পদ আমদানি করে। যেমন – আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এ প্রচুর পরিমাণে খনিজ তেল সঞ্চিত থাকা সত্ত্বেও নিজস্ব খনিজ তেলের ভান্ডার থেকে কম পরিমাণে তেল উত্তোলন করে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে খনিজ তেল আমদানি করে। 

প্রাকৃতিক সম্পদ কাকে বলে

প্রাকৃতিক সম্পদ হলো প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক উপাদান, যেগুলো মানুষের অভাব পূরণে সক্ষম। যেমন – ধান, সূর্যের আলো।

প্রকৃতিতে যেসব বস্তু স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় তাকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলে। অন্যভাবে বলা যায় প্রকৃতির দানই হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ। মানুষের দৈনন্দিন অভাব পূরণে এদের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে রয়েছে – জমি, পানি, জলবায়ু, গাছ-পালা, পশু-পাখি, বিভিন্ন ধরনের খনিজ দ্রব্য ইত্যাদি।

প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে রয়েছে – জমি, পানি, জলবায়ু, গাছ-পালা, পশু-পাখি, বিভিন্ন ধরনের খনিজ দ্রব্য ইত্যাদি। 

প্রাকৃতিক সম্পদ হলো প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক উপাদান, যেগুলো মানুষের অভাব পূরণে সক্ষম। যেমন- ধান, সূর্যের আলো ইত্যাদি।

প্রাকৃতিক সম্পদের প্রকারভেদ | Types of Natural Resource

প্রাকৃতিক সম্পদকে তিন ভাগে বিভক্ত। যথা-

  • ১। নবায়নযোগ্য সম্পদ। যেমন- সূর্যালোক।
  • ২। অনাবয়নযোগ্য সম্পদ। যেমন- কয়লা।
  • ৩। অন্যান্য সম্পদ। যেমন- প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য।

খনিজ সম্পদ কাকে বলে

এক বা একাধিক উপাদানে গঠিত হয়ে বা সামান্য পরিবর্তিত অবস্থায় যেসব রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাত যৌগিক পদার্থ শিলাস্তরে সঞ্চিত থাকে তাকে খনিজ বলে।

বিশেষ রাসায়নিক গঠনযুক্ত প্রাকৃতিক ও অজৈব উপায়ে গঠিত বস্তুকে খনিজ সম্পদ বলে।

এটি প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে সৃষ্টি হয়ে থাকে যার উপর মানুষের কোন হাত বা নিয়ন্ত্রন নেই। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে ভূ-পৃষ্ঠের অভ্যন্তরভাগের শিলান্তরের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার শিলার উপাদান অথবা যুগযুগ ধরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় শিলাসমূহ কয় প্রাপ্ত হয়ে যে সকল যৌগিক পদার্থ সৃষ্টি করে তাদেরকে খনিজ সম্পদ বলা হয়।

খনিজ সম্পদের উদাহরণ :-

সোনা, তামা, রূপা, করলা, জি তৈল, লোহা, ভাষা, দণ্ড, চুনাপাশ্বের, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাংগানিজ প্রভৃতি খনিজ সম্পদের উদাহরণ।

খনিজ সম্পদ কত প্রকার ও কি কি :-

খনিজ সম্পদের গঠন, উপাদান, আকার এবং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে খনিজ সম্পদকে প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা

১. ধাতব খনিজ : ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি খনিজকে ধাতব খনিজ বলে। ধাতব খনিজ লৌহ বৰ্গীয় এবং অলৌহ বৰ্গীয় হয়ে থাকে। লৌহ বৰ্গীয় ধাতব খনিজসমূহ হলো- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ এবং নিকেল। অলৌহবর্গীয় খনিজসমূহ হলো- তামা, টিন, সোনা, রূপা, হীরা প্রভৃতি।

২. অধাতব খনিজ : যে সকল খনিজে ধাতব পদার্থ থাকে না তাকে অধাতব খনিজ বলে। যেমন- সালফার, গ্রাফাইট, অভ্র এবং জিপসাম প্রভৃতি।

৩. শক্তিসম্পদ : যে সকল খনিজ সম্পদ প্রধানত শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয় তাকে শক্তি সম্পদ বলে। যেমন- খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং আণবিক খনিজ প্রভৃতি।

খনিজ সম্পদের ব্যবহার

দেশের প্রধান খনিজ সম্পদসমূহ হচ্ছে কয়লা, চুনাপাথর, কাঁচাবালি, খনিজ তেল, চানামাটি, খনিজ বালি এবং প্রাকৃতিক গ্যাস।

১. কয়লা :

শক্তির অন্যতম উৎস কয়লা। দেশের বিভিন্ন কল-কারখানা, রেলগাড়ি (বর্তমানে কিছু সংখ্যক মাল গাড়ি), জাহাজ প্রভৃতি চালাবার জন্য কয়লা ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বিভিন্ন প্রকার জালানি যেমন তাপীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ইটভাটা, গুড় তৈরী কারখানা ইত্যাদিতে কয়লা ব্যবহার হয়।

২. খনিজ তেল :

অশোধিত তেল থেকে পেট্রোল, কেরোসিন, বিটুমিন, ও অন্যান্য দ্রব্য পাওয়া যায়। তেলের ব্যবহার ব্যাপক। দৈনন্দিন রান্না, গাড়ী, ট্রেন সহ বিভিন্ন বিষয়ের জালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের প্রাপ্ত তেল খুবই অল্প।

৩. চুনাপাথর :

সিমেন্টের কাঁচামাল হিসেবে চুনাপাথরের ব্যাপক ব্যবহার। এছাড়া গ্লাস, ব্লিচিং পাউডার, চিনি, সাবান, কাগজ, পেইন্ট প্রভৃতি শিল্পে চুনাপাথর ব্যবহার হয়ে থাকে। দেশের উত্তরে যে চুনাপাথর পাওয়া যায়, তা ছাতকের সিমেন্ট কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

৪. চীনামাটি :

চীনামাটি তৈজসপত্র তৈরী এবং বৈদ্যুতিক ইনস্যুলেটর ও স্যানিটারী সরঞ্জামের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সামান্য পরিমাণে কাগজ ও রাবার শিল্পে ব্যবহার করা হয়।

৫. তামা :

বিভিন্ন প্রকার তৈজস পত্র, বৈদ্যুতিক তার, স্কু-নাট, ডেকোরেশন সরঞ্জামসহ অনেক ক্ষেত্রে তামা ব্যবহার হয় আমাদের দেশে।

৬. কঠিন শিলা :

রেলপথ, রাস্তাঘাট, গৃহ, সেতু ও বাঁধ নির্মাণ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি কাজে কঠিন শিলা (Hard Rock) ব্যবহৃত হয়।

৭. সিলিকা বালি :

সিলিকা বালি সাধারণত কাঁচ নির্মাণে ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া রং, রাসায়নিক দ্রব্য ইত্যাদি তৈরিতেও সিলিকা বালি ব্যবহৃত হয়।

৮. পারমাণবিক খনিজ পদার্থ :

পারমাণবিক খনিজ পদার্থ (Atomic Minerals) সাধারণত ভারী ধাতব শিল্পে ব্যবহৃত হয়। পারমাণবিক কার্যক্রমেও এ খনিজ ব্যবহৃত হয়।

৯. গন্ধক :

গন্ধক সাধারণত রাসায়নিক শিল্পে ব্যবহার হয়। ম্যাচ, সালফার জাতীয় ঔষধ তৈরীতে, কীট পতঙ্গ নাশক ঔষধ তৈরী, এসিড, পেট্রোলিয়াম, পরিশোধন, আতশবাজি বা বিস্ফোরক প্রভৃতি দ্রব্য তৈরীতে গন্ধক ব্যবহার করা হয়।

১০. প্রাকৃতিক গ্যাস :

বিদ্যুৎ উৎপাদন সারকারখানা, কীট নাষক ঔষধ, রাবার, প্লাষ্টিক, কৃত্রিম তন্তু, কৃষি, শিল্পকারখানা ও গৃহকর্মে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সি.এন.জি (Converted Natural Gas) হিসেবে মোটরযানে ব্যবহৃত হচ্ছে। এলপিজি বা রান্নার জন্য সিলিন্ডারের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস ব্যবহৃত হয়।

১১. লৌহ :

দেশের বাড়ী, গাড়ী সহ বিভিন্ন প্রকার শিল্পে লোহার ব্যবহার ব্যাপক। কিন্তু দেশের শুধু কিছু পরিমাণে আকরিক লোহা পাওয়া যায়।

বনজ সম্পদ কাকে বলে

বনজ সম্পদ হল প্রকৃতির এক অমূল্য সম্পদ। বনজ সম্পদ থেকে আমরা গৃহনির্মাণের সাজ সরঞ্জাম, জ্বালানি, নানা ধরনের গাছ, ওষুধ, আঠা ও ধুনো জাতীয় পদার্থ পেয়ে থাকি ।

1. কাঠ (wood) 

বনজ সম্পদ হিসাবে সর্বাধিক ব্যবহৃত দ্রব্যটি হল কাঠ। প্রকৃতি অনুসারে কাঠ দুধরনের হয়ে থাকে। যথা—নরম কাঠ এবং শক্ত কাঠ । শক্ত কাঠ উৎপাদনকারী কয়েকটি অতি পরিচিত উদ্ভিদ হল –শাল, সেগুন, জারুল, লগউড্, মেহগিনি, আবলুস, শিমূল, আয়রণ উড, দেবদারু প্রভৃতি। নরম কাঠ উৎপাদনকারী কয়েকটি উদ্ভিদ হল – পপুলার, পাইনাস, সাইকাস, সেড্রাস পাইসিয়া, ফার, বালসাম প্রভৃতি। গৃহনির্মাণ, আসবাব তৈরি, বৈদ্যুতিক খুঁটি নির্মাণ এবং রেলের স্লীপার তৈরিতে শক্ত কাঠ ব্যবহৃত হয়। অপরপক্ষে কাঠ বোর্ড, নিউজ প্রিন্ট তৈরিতে নরম কাঠ ব্যবহৃত হয়।

2. তৃণ, বাঁশ এবং বেত (Grasses, Bamboos and Canes)

তৃণভূমি (Grassland) এবং অরণ্য (Forest) থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রজাতির তৃণ গবাদি পশুর খাদ্য (Fodder), গ্রামাঞ্চলে মাটির বাড়ির ছাদ নির্মাণ, কাগজ তৈরির কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও খসখস ও বেতের চেয়ার টেবিল তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়।

3. ওষুধ (Medicine) 

বনজ সম্পদের ব্যবহার হিসাবে অন্যতম দ্রব্যটি হল ওষুধ।বিভিন্ন প্রকার ঔষধ উৎপাদনকারী উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত অ্যালকালয়েড বা উপক্ষার, ইউজিনল জাতীয় যৌগ এবং আইসোপ্রিনয়েড যৌগ ওষুধ প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।

4. মশলা (Spices) 

অরণ্য থেকে প্রাপ্ত প্রধান মশলা উৎপাদনকারী উদ্ভিদগুলি হল—দারুচিনি, বড় এলাচ, ছোট এলাচ প্রভৃতি।

5. পাতা (Leaf) 

শাল গাছের পাতা ছাঁছে ফেলে থালা, বাটি প্রস্তুত করা হয়। এছাড়াও কেন্দুগাছের পাতা বিড়ি পাতা হিসাবে বিড়ি তৈরিতে কাজে লাগে। রান্নায় সুগন্ধী পাতা হিসাবে তেজপাতা ব্যবহার করা হয়।

6. ট্যানিন ও রং (Tannin and Dyes) 

আমলকী, বহেরা, হরিতকী, ওক, হেমলক, আখরোট প্রভৃতি উদ্ভিদের দেহ নিঃসৃত রস এবং অ্যাভারাম ও বাবলার পুষ্প থেকে ট্যানিন সংগ্রহ করা হয়। ট্যানিন কাঁচা চামড়া পাকা করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

7. তেল (Oil) 

চন্দন, ইউক্যালিপ্‌টাস, লেমন গ্রাস, সিট্রোনেল্লা নামক উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত তেল সাবান, ফিনাইল, ওষুধ ও অন্যান্য প্রসাধন সামগ্রী প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।

৪. আঠা ও রেসিন (Gums and resin) 

স্টারকুলেসী (Sterculaceae) এবং লেগুমিনোসী (Leguminosae) গোত্রভুক্ত কয়েকপ্রকার উদ্ভিদের বাকল থেকে আঠা পাওয়া যায়। এই আঠা বয়ন শিল্পে, খাদ্য সামগ্রী প্রস্তুতিতে, দাঁতের মাজন ও সিগারেট প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। সকল প্রকার পাইন উদ্ভিদ থেকে রেসিন পাওয়া গেলেও কেবলমাত্র চীর পাইন (Pimus roxburghi) থেকেই রেসিন সংগ্রহ করা হয়। রেসিন প্রধানত বার্ণিশ শিল্পে, কৃত্রিম কর্পূর প্রস্তুত, মোম, রঙ, সাবান, ফিনাইল প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।

9. তত্ত্ব (Fibre) 

কয়েক প্রকার উদ্ভিদের স্ক্লেরেনকাইমা তত্ত্ব, জাইলেম তন্তু এবং ফ্লোয়েম তত্ত্ব দড়ি, গদি ও বালিশ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

চন্দন, ইউক্যালিপ্‌টাস, লেমন গ্রাস, সিট্রোনেল্লা নামক উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত তেল সাবান, ফিনাইল, ওষুধ ও অন্যান্য প্রসাধন সামগ্রী প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।

৪. আঠা ও রেসিন (Gums and resin) 

স্টারকুলেসী (Sterculaceae) এবং লেগুমিনোসী (Leguminosae) গোত্রভুক্ত কয়েকপ্রকার উদ্ভিদের বাকল থেকে আঠা পাওয়া যায়। এই আঠা বয়ন শিল্পে, খাদ্য সামগ্রী প্রস্তুতিতে, দাঁতের মাজন ও সিগারেট প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। সকল প্রকার পাইন উদ্ভিদ থেকে রেসিন পাওয়া গেলেও কেবলমাত্র চীর পাইন (Pimus roxburghi) থেকেই রেসিন সংগ্রহ করা হয়। রেসিন প্রধানত বার্ণিশ শিল্পে, কৃত্রিম কর্পূর প্রস্তুত, মোম, রঙ, সাবান, ফিনাইল প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।

9. তত্ত্ব (Fibre) 

কয়েক প্রকার উদ্ভিদের স্ক্লেরেনকাইমা তত্ত্ব, জাইলেম তন্তু এবং ফ্লোয়েম তত্ত্ব দড়ি, গদি ও বালিশ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

কৃষি সম্পদ কাকে বলে, কৃষিজ সম্পদ কাকে বলে

কৃষি থেকে যে সম্পদ পাওয়া যায় সেগুলিকে কৃষি সম্পদ বলে।

শক্তি সম্পদ কাকে বলে

যে সকল উৎস থেকে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব হয় এবং যে সমস্ত উৎস গুলি দীর্ঘকাল ধরে শক্তি উৎপাদনের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে তাদের প্রচলিত শক্তি সম্পদ বলা হয়।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় কয়লা, খনিজ তেল ,প্রাকৃতিক গ্যাস ,ইউরেনিয়াম পরমাণু হলো শক্তি সম্পদের উদাহরণ।

ভারতের খনিজ সম্পদ, ভারতের বিভিন্ন খনিজ সম্পদ উৎপাদনের রাজ্য সমূহের তালিকা, বিভিন্ন খনিজ উৎপাদনে ভারতের শীর্ষ রাজ্যের তালিকা

খনিজের নামশীর্ষ উৎপাদনকারী রাজ্য
সোনাকর্ণাটক, ঝাড়খন্ড
রুপাকর্ণাটক, রাজস্থান
হীরামধ্যপ্রদেশ
লোহাউড়িষ্যা, ছত্রিশগড়, কর্ণাটক
কয়লাউড়িষ্যা, ছত্রিশগড়, ঝাড়খন্ড
ম্যাগনেসিয়ামকর্ণাটক, উত্তরাখণ্ড, তামিলনাড়ু
বক্সাইটউড়িষ্যা, গুজরাট
কোবাল্টউড়িষ্যা, ঝাড়খন্ড, নাগাল্যান্ড
নিকেলউড়িষ্যা, ঝাড়খন্ড
ম্যাঙ্গানিজউড়িষ্যা, মহারাষ্ট্র
চুনাপাথরমধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান
টিনছত্রিশগড়
সীসারাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ
তামামধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ঝাড়খন্ড
লিগনাইটতামিলনাড়ু
ডলোমাইটছত্রিশগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ
কায়ানাইটঝাড়খন্ড, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক
ক্রোমাইটউড়িষ্যা, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ
অভ্রঅন্ধ্রপ্রদেশ, উড়িষ্যা, রাজস্থান
প্রাকৃতিক গ্যাসআসাম
জিপসামরাজস্থান, তামিলনাড়ু, গুজরাট
ইউরেনিয়ামঅন্ধ্রপ্রদেশ, ঝাড়খন্ড, কর্ণাটক
পেট্রোলিয়ামমহারাষ্ট্র, গুজরাট
অ্যান্টিমনিপাঞ্জাব, কর্ণাটক
দস্তারাজস্থান
থোরিয়ামকেরালা, ঝাড়খন্ড, বিহার
অ্যাসবেসটসরাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক
বিভিন্ন খনিজ উৎপাদনে ভারতের শীর্ষ রাজ্যের তালিকা

পুনর্নবীকরণযোগ্য সম্পদ কাকে বলে, নবীকৰণ যোগ্য সম্পদ

একটি অ-নবায়নযোগ্য সম্পদ (একটি সীমিত সম্পদ হিসাবেও পরিচিত) হল একটি প্রাকৃতিক সম্পদ যা ব্যবহার অব্যাহত রাখার জন্য প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া দ্বারা যথেষ্ট দ্রুত পূরণ করা যায় না। কার্বন-ভিত্তিক জীবাশ্ম জ্বালানী একটি উদাহরণ।

তাপ ও ​​চাপের ব্যবহারে মূল জৈবিক পদার্থ তেল বা গ্যাসের মতো জ্বালানিতে রূপান্তরিত হয়। পৃথিবীর খনিজ পদার্থ এবং ধাতু আকরিক, জীবাশ্ম জ্বালানী (কয়লা, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস), এবং নির্দিষ্ট জলাধারের ভূগর্ভস্থ জল সবই অ-নবায়নযোগ্য সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হয়, যদিও স্বতন্ত্র উপাদানগুলি সর্বদা বজায় থাকে (পারমাণবিক বিক্রিয়া, পারমাণবিক ক্ষয় বা বায়ুমণ্ডলীয় ক্ষয় ছাড়া )

কাঠ (যখন নৈতিকভাবে কাটা হয়) এবং বায়ু, অন্যদিকে, পুনর্নবীকরণযোগ্য সম্পদ হিসাবে বিবেচিত হয়, কারণ তাদের স্থানীয়ভাবে পুনরায় পূরণ করা মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্যে হতে পারে।

পুনর্নবীকরণযোগ্য সম্পদের মধ্যে রয়েছে পৃথিবীর খনিজ এবং ধাতু আকরিক। ধাতুগুলি নিজেই পৃথিবীর ভূত্বকের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে, এবং মানুষের দ্বারা তাদের নিষ্কাশন তখনই ঘটে যখন প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াগুলি (যেমন তাপ, চাপ, জৈব কার্যকলাপ, আবহাওয়া এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া) অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাব্য নিষ্কাশন করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে তাদের কেন্দ্রীভূত করে। প্লেট টেকটোনিক্স, টেকটোনিক সাবসিডেন্স এবং ক্রাস্টাল রিসাইক্লিং সবই শেষ হতে কয়েক হাজার থেকে মিলিয়ন বছর সময় নেয়।

আরো অন্যান্য অতি জনপ্রিয় প্রশ্নোত্তর সম্পর্কে জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন 

FAQ | সম্পদ

Q1. কোনটি আধুনিক পৃথিবীর সম্পদ

Ans – তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি হলো আধুনিক পৃথিবীর সম্পদ।

Q2. পশ্চিমবঙ্গের প্রধান খনিজ সম্পদ কি

Ans – পশ্চিমবঙ্গের প্রধান খনিজ সম্পদ কয়লা, সঞ্চয়ের নিরিখে ভারতের মধ্যে চতুর্থ আর উত্তোলনে ৭ম।

Q3. ভারতের প্রধান খনিজ সম্পদ কি

Ans. ভারতের প্রধান খনিজ সম্পদের মধ্যে রয়েছে কয়লা (বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম রিজার্ভ), লোহা আকরিক, ম্যাঙ্গানিজ আকরিক (2013 সালের হিসাবে বিশ্বের 7তম বৃহত্তম রিজার্ভ), মাইকা, বক্সাইট (2013 সালের হিসাবে বিশ্বের 5ম বৃহত্তম রিজার্ভ), ক্রোমাইট, প্রাকৃতিক গ্যাস, হীরা, চুনাপাথর এবং থোরিয়াম।

আপনি কি চাকরি খুজঁছেন, নিয়মিত সরকারিবেসরকারি চাকরির সংবাদ পেতে ক্লিক করুন। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে মানব সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাড়ার জন্য, ক্লিক করুন। হিন্দিতে শিক্ষামূলক ব্লগ পড়তে, এখানে ক্লিক করুন। এছাড়াও, স্বাস্থ, টেকনোলজি, বিসনেস নিউস, অর্থনীতি ও আরো অন্যান্য খবর জানার জন্য, ক্লিক করুন

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট শেয়ার করতে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।