Site icon prosnouttor

তিনটি কারণ বর্ণনা করুন যা পৃথিবীতে এবং অন্য কোন গ্রহে জীবনকে সম্ভব করেছে।

একটি অনন্য গ্রহ হিসাবে পৃথিবীর স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্য দিন। এছাড়াও অন্যান্য গ্রহের সাথে তুলনা করার তিনটি পয়েন্ট দিন

একটি অনন্য গ্রহ হিসাবে পৃথিবীর স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্য দিন। এছাড়াও অন্যান্য গ্রহের সাথে তুলনা করার তিনটি পয়েন্ট দিন

আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট শেয়ার করতে

WBBSE Geography, Bhugol | Prithibi Akti Groho Question Answer

উপরিউক্ত প্রশ্ন এবং তার যথাযত সমাধান, নিম্ন লিখিত সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর আকারে বর্ণনা করা হলো। এই উত্তর গুলি ছোট (SA) এবং বড় (LA), সকল প্রশ্নোর ক্ষেত্রে উত্তর সমাধান হিসাবে পাঠ করা যেতে পারে।

প্রশ্নোত্তর এবং সমাধান

তিনটি কারণ বর্ণনা করুন যা পৃথিবীতে এবং অন্য কোন গ্রহে জীবনকে সম্ভব করেছে।

পৃথিবীতে এবং অন্য কোন গ্রহে জীবন সম্ভব হয়েছে এমন কারণগুলি নিম্নরূপ:

পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তি

আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী যা বিভিন্ন ধরনের ভৌগলিক বৈচিত্র সম্পন্ন ও অসংখ্য প্রজাতির জীব বৈচিত্র এখানে দেখতে পাওয়া যায় , বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের মতে আমাদের পৃথিবীতে আনুমানিক 3 কোটি জীব প্রজাতি বর্তমান যার মধ্যে মাত্র 16 লক্ষ প্রজাতি আজ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়েছে । কে আমাদের সৃষ্টিকর্তা ! কিভাবে পৃথিবীতে প্রথম জীবনের আবির্ভাব , চলুন আজকে আমরা জেনে নিই ।

বন্ধুরা আমরা সকলেই জানি আমরা এসেছি আমাদের পূর্বপুরুষ থেকে ও তারা এসেছে কোন এক সময়ে বানরের প্রজাতি থেকে বিবর্তনের ফলে , কিন্তু আপনাদের অনেকেরই মনে হয়তো এই প্রশ্নটি কখনো না কখনো এসেছে যে বানর প্রজাতি এই পৃথিবীতে কিভাবে এলো ? আমাদের পৃথিবীতে এত বন জঙ্গল গাছপালা অরণ্যে ভরা এগুলি সেই প্রথম কোন উদ্ভিদ থেকে বা কোন উদ্ভিদের বীজ থেকে সৃষ্টি হয়েছে? আর প্রথম উদ্ভিদ কিভাবে পৃথিবীতে তৈরি হল ।

ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির 9 বিলিয়ন বছর পরে অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন বছর আগে একটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে সূর্য থেকে আমাদের পৃথিবীর জন্ম হয়, পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তি কবে কখন ও কিভাবে হয়েছিল তা সঠিকভাবে বলা অসম্ভব তবে জীবনের উৎপত্তি নিয়ে বহু দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিকরা তাদের বিভিন্ন তত্ত্ব পেশ করে থাকেন যার বেশির ভাগেরই কোন বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা খুজেঁ পাওয়া যায়নি ।

সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বিশেষ সৃষ্টি তত্ত্ব বা থিওরি অফ স্পেশাল ক্রিয়েশন যেখানে অনুমান করা হয় পৃথিবী ও পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রাণের উৎস সবই ঈশ্বরের সৃষ্টি করা ।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য তত্ত্ব হলো গ্রহান্তর বাদ তত্ত্ব বা প্লানেটরিজম থিওরি এই তত্ত্বের মতে পৃথিবীর সৃষ্টি হওয়ার পরে পৃথিবীতে প্রথম জীবনে এসেছে অন্য কোন গ্রহ থেকে ।

বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যার না পাওয়ায় 1924 খ্রিস্টাব্দে এই সমস্ত তত্ত্ব খারিজ করে পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তি নিয়ে বিজ্ঞানী অপারিন ও হ্যাল্ডেন এক মত বাদ প্রবর্তন করেন যা ছিল জীবনের জৈব রাসায়নিক উৎপত্তির মতবাদ , জৈব রাসায়নিক তত্ত্বের মতে পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের সূচনা আজ থেকে আনুমানিক সাড়ে তিন বিলিয়ন বছর আগেই ঘটেছিল এবং সেই সরলতম আদিপ্রাণ থেকেই ধীরে ধীরে বিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল জীবের সৃষ্টি হয় ।

আমাদের পৃথিবীর উৎপত্তির পর প্রথমদিকে দৃশ্যটা ছিল খুবই ভয়ংকর , পৃথিবী ছিল এক উত্তপ্ত আগুনের গোলার মতো দেখতে তাপমাত্রা ছিল 5000 থেকে 6000 ডিগ্রি সেলসিয়াস ও তখন পৃথিবীতে মাত্র সাত ঘন্টার দিন ছিল , এভাবেই ধীরে ধীরে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব বাড়তে থাকে ও হাজার হাজার বছর পর পৃথিবী ও সূর্য যখন সঠিক দূরত্ব অবস্থান করে তখন পৃথিবীর উষ্ণতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে ও পৃথিবীতে অবস্থিত লোহা নিকেল ইত্যাদি ভারী পদার্থ পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ও অ্যালুমিনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি কম ভারী পদার্থ মাঝখানে ও বাইরে থেকে হাইড্রোজেন হিলিয়াম ইত্যাদি গ্যাসীয় পদার্থ অবস্থান করে , সেসময়ে উষ্ণতা অত্যাধিক হওয়ায় জল ছিল জলীয়বাষ্প রূপে ।

ধীরে ধীরে পৃথিবীর তাপমাত্রা কমার ফলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে জল কনার সৃষ্টি হয় ও বৃষ্টি রূপে আমাদের পৃথিবীতে নেমে আসে এর থেকেই বিভিন্ন মহাসাগর, সমুদ্র ও হ্রদের সৃষ্টি হয়, চক্রাকারে বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা আরো দ্রুত হারে কমতে শুরু করে পৃথিবীর ভু ভাগ কঠিন উপাদানে পরিণত হয় । সেই সময়ে বায়ুমণ্ডলে ওজোন গ্যাসের স্তর ভালোভাবে ডেভলপ না হওয়ায় সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মি ও মহাকাশ থেকে আগত কসমিক রে সরাসরি পৃথিবীতে প্রবেশ করে এবং সেই শক্তির বিভিন্ন জৈব অণু সংশ্লেষের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি জগিয়ে ছিল ।

পৃথিবীতে যখন তাপমাত্রা কমে 1000 ডিগ্রি সেলসিয়াস তখন বায়ুমন্ডলে অবস্থিত বিভিন্ন অজৈব অণু যেমন হাইড্রোজেন, এমোনিয়া , মিথেন ,জলীয় বাষ্প, কার্বন-ডাই-অক্সাইড , ইত্যাদির সঙ্গে আকাশের বজ্র বিদ্যুৎ যা তড়িৎ শক্তি হিসেবে কাজ করেছে ও অতিবেগুনি রশ্মি ইত্যাদি মিলিত প্রক্রিয়ায় সমুদ্র লাভা মিশ্রিত গরম জলে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটাতে সম্ভব হয়েছিল ও এর থেকেই সরল জৈব অণু যেমন অ্যামাইনো এসিড ,ফ্যাটি এসিড ও পরে তৈরি হয় জটিল জৈব অণু যেমন প্রটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড যা ডিএনএ ও আরএনএ তৈরি করতে সক্ষম , এভাবেই সমুদ্রের জলে কোষ সৃষ্টির উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে ওঠার পর সৃষ্টি হয় আদিকোষ বা প্রোটোসেল এর যা থেকে পড়ে ব্যাকটেরিয়া বা এককোষী জীব সৃষ্টি হয়, প্রায় দু বিলিয়ন বছর আগে সায়ানোব্যাকটেরিয়ার মত কিছু ব্যাকটেরিয়া যা অক্সিজেন তৈরি করতে সক্ষম ছিল তাদের জন্ম হয় পৃথিবীতে ও তাদের জন্য পৃথিবীতে মুক্ত অক্সিজেন এর আবির্ভাব ঘটল ও মুক্ত অক্সিজেন এর ফলে শ্বসন যুক্ত জীব কোষের সৃষ্টি হয় ও জীবের সৃষ্টি হয়, এরপরে পর্যায়ক্রমিকভাবে সামুদ্রিক প্রাণী , সরিসৃপ, ও ডাইনাসরের সৃষ্টি হয় ।

এরপরই আসলো সেই ধ্বংসের দিন 200 মিলিওন বছর আগে একটি গ্রহাণু পৃথিবীর বুকে আচড়ে পড়ে ও সমস্ত ডাইনোসর প্রজাতি , উদ্ভিদ প্রাণী সমস্ত জীব নিমেষেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যায় যে পার্মেডিয়ান এক্সপ্লোশন নামে পরিচিত ছিল । এই ঘটনার পর পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে ধূলিকণায় ভরে যায় ও কয়েকশো বছর পৃথিবীতে সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারেনি , যারপর পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও তাপমাত্রা পরিবর্তনের ফলে অবশেষে ধীরে ধীরে তা বায়ুমণ্ডল থেকে সরে যায় ও 65 মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবী আবার নতুন করে নতুন রূপে জন্ম নেয় ।

পৃথিবীর বুকে দেখা যায় বিভিন্ন নতুন প্রজাতির জন্ম যার মধ্যে একটি ছিল স্তন্যপায়ী প্রাণী , ও সেই স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে ধীরে ধীরে আমাদের পূর্বপুরুষদের আবির্ভাব হয় ও তাদের কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা ও বলিদান এর ফলেই হল আজকে আমাদের এই আধুনিক জীবনযাপন ।

আরো অন্যান্য অতি জনপ্রিয় প্রশ্নোত্তর সম্পর্কে জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন 

আরো বিশদে পড়ার জন্য

অল ইন ওয়ান ভূগোল ও পরিবেশ (জিওগ্রাফি এন্ড এনভায়রনমেন্ট)

অল ইন ওয়ান ভূগোল ও পরিবেশ (জিওগ্রাফি এন্ড এনভায়রনমেন্ট)

ক্লাস – 9 এর জন্য.



পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তি

ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির 9 বিলিয়ন বছর পরে অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন বছর আগে একটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে সূর্য থেকে আমাদের পৃথিবীর জন্ম হয়


আপনার বন্ধুদের সাথে এই পোস্ট শেয়ার করতে
Exit mobile version